সোমবার (ভারতীয় সময়) ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে নয়াদিল্লি। তবে এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি ভারত। তবে সূত্রের খবর, রুশ তেলের বিকল্প হিসাবে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার কথা চিন্তা-ভাবনা করছে নয়াদিল্লি।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ভারতের রিফাইনারিগুলি কি ভেনেজুয়েলার তেল শোধন করতে সক্ষম? কারণ, বিভিন্ন দেশের অপরিশোধিত তেলের গুণমান ভিন্ন হয়। তাই রিফাইনারিগুলির ক্ষমতাও ভিন্ন হয়। তবে ভেনেজুয়েলার তেলের গুণমান এবং রুশ তেলের গুণমান প্রায় সমান। ভারতের অধিকাংশ রিফাইনারিই এই ধরনের তেল শোধন করতে সক্ষম। তবে এখানে সমস্যা হল ভারত রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ তেল আমদানি করে, সেই পরিমাণ তেল উৎপাদন করতে সক্ষম নয় ভেনেজুয়েলা। রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী। কিন্তু ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন সেই স্তরের অনেক নিচে।
রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী। কিন্তু ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন সেই স্তরের অনেক নিচে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার তেল পরিকাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষয়িষ্ণু। তাই উৎপাদন ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে হলে কমপক্ষে দশ বছর কাজ এবং হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের প্রয়োজন। ১৯৯৯ সালের আগে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন ৩০ লক্ষ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন করত। কিন্তু এখন তাদের তেল উৎপাদনের পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের তৈল-চাহিদার সামান্য অংশই ভেনেজুয়েলা পূরণ করতে পারে। তাই বিনিয়োগ ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন ছাড়া এখনই সম্পূর্ণভাবে তেল আমদানিতে ভেনেজুয়েলার উপর নির্ভর হতে পারবে না নয়াদিল্লি।
তবে ভেনেজুয়েলার তেলের গুণমান এবং রুশ তেলের গুণমান প্রায় সমান। ভারতের অধিকাংশ রিফাইনারিই এই ধরনের তেল শোধন করতে সক্ষম।
ট্রাম্পের দাবি, বাণিজ্যচুক্তির পর আর রুশ তেল কিনবেন না বলে কথা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়াদিল্লির তরফে এই বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। ফলে বিষয়টা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের দাবি, এখনও পর্যন্ত ভারতের তরফে এরকম কিছুই জানানো হয়নি। ট্রাম্পের কথা অনুযায়ী, ভারত কি তেল কেনার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে? উত্তর দেবে সময়।
