মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, বাণিজ্যচুক্তির পর আর রুশ তেল কিনবেন না বলে কথা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও নয়াদিল্লির তরফে এই বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। ফলে বিষয়টা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার এই ইস্যুতে মুখ খুলল রাশিয়া। ক্রেমলিনের দাবি, এখনও পর্যন্ত ভারতের তরফে এরকম কিছুই জানানো হয়নি।
রুশ মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ''এখনও পর্যন্ত নয়াদিল্লির তরফে কোনও মন্তব্যই করা হয়নি এই বিষয়ে।'' তাঁদের মন্তব্য থেকে পরিষ্কার, আপাতত কোনও বাড়তি কথা না বলে ক্রেমলিন চাইছে পুরো বিষয়টির দিকে নজর রাখতে। ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুত্ব বহুদিনের। আমেরিকার সঙ্গেও নয়াদিল্লির বন্ধুত্ব মজবুত। যদিও ট্রাম্পের 'দ্বিতীয় ইনিংসে' পরিস্থিতি বদলেছে। রুশ তেল কেনার কথা বলে ভারতকে খোঁচা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এখানেই শেষ নয়। ভারত-সহ একাধিক দেশের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ফের চাপ বাড়িয়ে আরও বাড়তি ২৫ শতাংশ চাপানো হয়। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সময় সোমবার কার্যত সকলকে চমকে দিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তির কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প জনান, এই বাণিজ্যচুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ করা হবে।
ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুত্ব বহুদিনের। আমেরিকার সঙ্গেও নয়াদিল্লির বন্ধুত্ব মজবুত। যদিও ট্রাম্পের 'দ্বিতীয় ইনিংসে' পরিস্থিতি বদলেছে। রুশ তেল কেনার কথা বলে ভারতকে খোঁচা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই বিষয়ে জানাতে গিয়েছে ট্রাম্প বলেছেন, ''আমরা অনেক বিষয়েই কথা বলেছি। যার মধ্যে বাণিজ্য থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তিও আছে। উনি (প্রধানমন্ত্রী মোদি) রুশ কেনা থেকে বিরত থাকতে রাজি হয়েছে। এবং আমেরিকা ও সম্ভবত ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবেন বলেছেন।'' প্রসঙ্গত, ভারত এখনও এই বিষয়টি পরিষ্কার করেনি। শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও মোদি রুশ তেলের প্রসঙ্গে কিছুই বলেনি। এই নিয়ে মোদিকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাত শিবিরের দাবি, মোদি সরকারকে এই চুক্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য প্রকাশ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে ভারতের কৃষক, ব্যবসায়ী এবং শিল্পের উপর এই বাণিজ্যচুক্তি বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।
