মুখ পুড়েছে সিঁদুরে, ঢক্কানিনাদে শেষ সমরাস্ত্র বিক্রি? পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেউ কিনছে না, এমনটাই খবর ছিল। যদিও ইসলামাবাদের নতুন দাবি, ইতিমধ্যে পাঁচটি দেশ জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহী হয়েছে। এই বিপুল চাহিদা মেটানোই এখন ইসলামাবাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই বিমানের বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় কম, যা দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি চুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, প্রায় দেউলিয়া একটি রাষ্ট্রের পক্ষে সমরাস্ত্রের ব্যবসা করা বাস্তবে সম্ভবই নয়। কেবল ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যুদ্ধে পাল্লা দিতেই ঢক্কানিনাদ।
পাক সেনার দাবি, গত এক মাসে ইরাক, বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়া এই বিমানটি কেনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়াও সৌদি আরব এবং লিবিয়াও এই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়ে কারিগরি অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এর মধ্যে কেবল সৌদি আরবই নাকি ৫০টি জেএফ-১৭-এর জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল চুক্তির কথা ভাবছে। যা বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের জন্য এযাবৎকালের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে। এছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ৪০টি, বাংলাদেশে ও লিবিয়া ১৬টি করে জেএফ১৭ বিমান কেনার বিষয়ে পরিকল্পনা করেছে। ইতিমধ্যে আজারবাইজান ১.৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ৪০টি বিমানের অর্ডার দিয়েছে বলেও দাবি।
ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিতে অস্ত্র ব্যবসার কূটনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে পাকিস্তান।
পাক দাবি অনুযায়ী, বিপুল চাহিদা থাকলেও উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। পাকিস্তান বর্তমানে বছরে ১৬ থেকে ১৮টি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান তৈরি করে, যার প্রায় পুরোটাই পাকিস্তান বিমানবাহিনীর নিজস্ব প্রয়োজন মেটাতে চলে যায়। পাকিস্তানের প্রাক্তন এয়ার ভাইস মার্শাল ফায়িজ আমিরের বক্তব্য, "রপ্তানির জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আমাদের ছিল, কিন্তু অর্ডার পাওয়ার আগে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ করা হয়নি। এখন এই বিশাল চাহিদা সামলানো কঠিন হবে।"
এই বক্তব্যে গোলমাল রয়েছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। তাঁদের মতে, ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিতে অস্ত্র ব্যবসার কূটনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে পাকিস্তান। আদতে একটি প্রায় দেউলিয়া রাষ্ট্রের পক্ষে সামরিক অস্ত্রের ব্যবসা করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মত সামরিক শক্তি এবং রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরে, নিজের দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং কূটনৈতিক সমস্যা থেকে মনোযোগ ঘরানোর চেষ্টা করছে সরকার।
