ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করল ইজরায়েল এবং আমেরিকা। বৃহস্পতিবার ইজরায়েলের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের উপকূলীয় এলাকায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে খবর। তাংসিরিই ছিলেন 'তৈল ধমনী' হরমুজ প্রণালীর 'দ্বাররক্ষক'। তাঁর 'ব্লুপ্রিন্টে'ই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে রুদ্ধ করে রেখেছে ইরান।
তাংসিরির উপর হামলা নিয়ে ইরান বা ইজরায়েল কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যদি এই খবর সত্যি হয়, তাহলে যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এটি তেহরানের উপর বড়সড় আঘাত। আমেরিকা-ইজরায়েলের 'মৃত্যুবাণ' থেকে এতদিন নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তাংসিরি। কিন্তু শেষমেষ তিনি পরাস্ত হলেন। ২০১৮ সাল থেকে হরমুজের দায়িত্বে ছিলেন তাংসিরি। বর্তমান সংঘাত আবহে তিনিই কৌশলে হরমুজ বন্ধ করে গোটা বিশ্বের উপর চাপ বাড়িয়েছিলেন। বলা বাহুল্য, হরমুজ অবরুদ্ধ করা ইরানের বড় চালগুলির মধ্যে অন্যতম। তাংসিরির চালে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এবার মৃত্যুবাণে বিদ্ধ হলেন 'দ্বাররক্ষক'। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি তাহলে হার মানবে ইরান?
ইজরায়েলের হামলায় সম্প্রতি মৃত্যু হয়েছে নিহত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের 'ডান হাত' বলে পরিচিত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারজানির। শুধু তা-ই নয়, প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের গুপ্তচর মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব। এছাড়াও ইজরায়েলি ক্ষেপমাস্ত্রে নিহত হয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্সের’ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান হার মানার পাত্র নয়। আরও শক্তি দিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ হরমুজ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এটি বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এই প্রণালির মাধ্যমে তেল রপ্তানি করে থাকে। তেলের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস—বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই পথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ। তারা হরমুজের মাধ্যমে গ্যাস রপ্তানির ওপরেই নির্ভরশীল। এই সব কারণেই হরমুজকে ‘বিশ্বের জ্বালানির লাইফলাইন’ বলা হয়। ভারত, চিন, রাশিয়া, ইরাক এবং পাকিস্তানকে 'ছাড়পত্র' দিয়ে বাকি দেশগুলির জন্য হরমুজ বন্ধ করে রেখেছে ইরান। ফলে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকট।
