সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মায়ানমারে ভয়াবহ কম্পনের পর কেটে গিয়েছে তিনদিন। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হল এক মহিলাকে। যদিও ভূমিকম্পের জেরে মৃত্যুমিছিল বেড়েই চলেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সূত্রে খবর, মৃতের সংখ্যা দু'হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। যদিও মায়ানমারের জাতীয় মিডিয়া জানিয়েছে, ১৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেদেশে।

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মায়ানমারের চিনা দূতাবাসের ফেসবুকে জানানো হয়, একটি হোটেলের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক মহিলাকে। প্রায় ৬০ ঘণ্টা তিনি চাপা পড়েছিলেন ম্যান্ডালে এলাকায় একটি হোটেলের ধ্বংসস্তূপের নিচে। আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে গোটা মায়ানমারের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। বহু মানুষের মৃতদেহ এখনও চাপা পড়ে রয়েছে ধ্বংসস্তূপের নিচে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা উদ্ধারকারীদের। মায়ানমারের জাতীয় মিডিয়ার মতে, ১৭০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ভয়াবহ কম্পনে।
ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে মায়ানমারের প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও। সেখানে মৃতের সংখ্যা আপাতত ১৮। তবে নির্মীয়মাণ স্কাইস্ক্রেপার ভেঙে পড়ায় আরও ৭৬ জন চাপা পড়ে রয়েছেন বলে প্রশাসনের অনুমান। তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে সেখানেও বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে কেঁপে ওঠে মায়ানমার। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৭। উৎপত্তিস্থল সে দেশের সাগাইং শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। সেই সময় কম্পন অনুভূত হয় বাংলাদেশের ঢাকা-সহ একাধিক জায়গায়। এর প্রভাব পড়ে ভারতেও। কেঁপে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া, হুগলি-সহ একাধিক জেলা ও সিকিমও। ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মায়ানমারের পাশে দাঁড়াতে ‘অপরেশন ব্রহ্ম’ ঘোষণা করেছে ভারত। ইতিমধ্যে বায়ুসেনার বিমানে ১৫ টন ত্রাণ পাঠানো হয়েছে সেদেশে। ভারত ছাড়াও আরও একাধিক দেশ ত্রাণ পাঠাচ্ছে মায়ানমারে।