সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন! সম্প্রতি মস্কোর এমন বিস্ফোরক দাবি ঘিরে হইচই পড়ে গিয়েছে। বুধবার রাশিয়ার তরফে হামলার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তথ্য যাচাইকারী কিছু ওয়েবসাইটে দাবি করা হচ্ছে, মস্কো যে ভিডিওটি প্রকাশ করেছে, তা ভুয়ো। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ জিইয়ে রাখতেই নতুন ষড়যন্ত্র করেছেন পুতিন।
তথ্য যাচাইকারী ওয়েবসাইটের পাশাপাশি বহু এক্স ইউজারও এমনটাই দাবি করছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিডিওটিতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। ভিডিওটিতে একটি গাড়িকে দেখা গিয়েছে। তাজা বরফের উপর দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাস্তায় টায়ারের কোনও চিহ্ন নেই। তাছাড়া ভিডিওটিতে যে শব্দ শোনা যাচ্ছে, সেটিও মানও খুব খারাপ। এক্স ইউজারদের দাবি, ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এইআই-এর সাহায্যে নির্মিত। আরও এক ইউজার লিখেছেন, ‘ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, বাড়ির একেবারে কাছে বিস্ফোরণ হচ্ছে, কিন্তু তা-ও কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’ পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবি খারিজ করেছেন ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, '২৪ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। রাশিয়া কোনও যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ দিতে পারেনি। তারা পারবেও না। কারণ, এরকম কোনও ঘটনা ঘটেইনি।'
মঙ্গলবার রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এক বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন, মস্কোর পশ্চিমে নভগরদ এলাকায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাড়ি নিশানা করে অন্তত ৯১টি দূরপাল্লার ড্রোন ছুড়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। যার সব ক’টিকেই গুলি করে নামানো হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন লাভরভ। এই ঘটনার পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার কথা শুনে ক্ষুব্ধ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, পুতিনের কাছ থেকেই তিনি ঘটনার কথা শুনেছেন। এর পরেই কিছুটা অসন্তোষের সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি এটা একদমই পছন্দ করছি না। মোটেও ঠিক হয়নি। আমি খুবই রেগে গিয়েছিলাম।” উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। দফায় দফায় মধ্যস্থতার চেষ্টা করেও এই সংঘর্ষ থামাতে পারেননি ট্রাম্প। রবিবার রাতেও পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি। ঘটনাচক্রে, তার পরেই পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেন হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ তোলে রাশিয়া। যদিও সেই দাবি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে কিয়েভ। ট্রাম্পের বক্তব্য, “এটা সংবেদনশীল সময়। এখন এ সব করার সঠিক সময় নয়। কেউ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে, তার বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা এক বিষয়। কিন্তু কারও বাড়িতে হামলা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এখন এই দু’টির মধ্যে কোনওটিই করা উচিত নয়।”
