shono
Advertisement
Zohran Mamdani

কোরান সাক্ষী রেখে নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসাবে শপথ, পরিত্যক্ত স্টেশনে দাঁড়িয়ে কী বার্তা মামদানির?

কেন পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নিলেন মামদানি?
Published By: Subhodeep MullickPosted: 12:23 PM Jan 01, 2026Updated: 12:37 PM Jan 01, 2026

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসাবে শপথ নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে (স্থানীয় সময়) পবিত্র কোরানকে সাক্ষী রেখে ম্যানহাটেনের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে তিনি শপথগ্রহণ করলেন। শপথ নেওয়ার পর প্রথম বার্তায় তিনি বলেন, “এই সম্মান এবং সুযোগ গর্বের। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মনে থাকবে।”

Advertisement

৩৪ বছর বয়সি ডেমোক্র্যাট নেতার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস। অন্যদিকে, পবিত্র কোরান হাতে উপস্থিত ছিলেন জোহরানের স্ত্রী রমা দুয়াজি। তবে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা নাগাদ মার্কিন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের পরিচালনায় আরও একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। সেই উপলক্ষে একটি বিশেষ প্যারেডও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে। জোহরান এবং তাঁর স্ত্রী শীঘ্রই তাঁদের ভাড়া বাড়ি ছেড়ে দেবেন। উঠবেন ম্যানহাটেনে মেয়র বাসভবনে।

কেন পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নিলেন মামদানি? ১৯০৪ সালে যখন নিউ ইয়র্কে মেট্রো পরিষেবা শুরু হয়েছিল, সেই সময় ১৮টি স্টেশন নির্মাণ করা হয়। তার মধ্যে একটি হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই  সিটি হল। কিন্তু পরে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়, আসে উন্নত প্রযুক্তি। তাই স্টেশনটি স্থানান্তরিত করা হয়। ফলে পরিত্যক্ত হয়ে যায় পুরনো স্টেশনটি। কিন্তু আজও শহরের ঐতিহ্য পুরনো এই সিট হল স্টেশন। তাই এটির অবদানের কথা স্মরণ করে সেখানেই শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মামদানি।

নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন মামদানি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার তাঁকে কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘কমিউনিস্ট’ জোহরান নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি শহরের কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধ করে দেবেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘রক্তচক্ষু’কে পরোয়া না করেই বিপুল ভোটে মামদানিকে জয়ী করেছে নিউ ইয়র্কবাসী। যদিও ভোটে জয়লাভ করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন মামদানি। সেই সময় দু'জনে খোশ মেজাজে দেখা গিয়েছিল। তবে ভবিষ্যতে দু'জনের সম্পর্কের সমীকরণ কোথায় দাঁড়াবে সেটাই সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল। নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসাবে শপথ নিয়েছেন মামদানি। পাশাপাশি, নিউ ইয়র্কের গত ১০০ বছরের ইতিহাসে ৩৪ বছর বয়সি মামদানিই হলেন কনিষ্ঠতম মেয়র।

উল্লেখ্য, মামদানির জন্ম উগান্ডার কাম্পালায়। তাঁর বাবা বিখ্যাত লেখক মাহমুদ মামদানি। তিনি মুম্বইতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অন্যদিকে, জোহরানের মা হলেন স্বনামধন্য চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার। জন্মের কিছু বছর পর মামদানি নিউ ইয়র্কে চলে যান। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কের কুইন্সের বাসিন্দা। এই কুইন্স শহরে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশির বাস। সেখানে থাকতে থাকতেই বাংলা ভাষা রপ্ত করেছেন মামদানি। সমাজমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে বাংলা ভাষাতেও কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। সস্তায় খাদ্য,বস্ত্র এবং বাসস্থান – নিউ ইয়র্কের বাসিন্দাদের জন্য এই তিন প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিলেন মামদানি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসাবে শপথ নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি।
  • বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে (স্থানীয় সময়) পবিত্র কোরানকে সাক্ষী রেখে ম্যানহাটেনের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে তিনি শপথগ্রহণ করলেন।
  • শপথ নেওয়ার পর প্রথম বার্তায় তিনি বলেন, “এই সম্মান এবং সুযোগ গর্বের। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মনে থাকবে।”
Advertisement