shono
Advertisement
Pakistan

পাকিস্তানে গিয়ে নিখোঁজ, ধর্মান্তরিত হয়ে পাক নাগরিককে বিয়ে! অডিও বার্তায় দুর্দশা শোনালেন ভারতীয় মহিলা

সরবজিৎ পাঞ্জাবের কাপুরথালার বাসিন্দা ছিলেন। গুরু নানকের ৫৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশপর্বে যোগ দিতে ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন ১৯৯২ জন তীর্থযাত্রী। সেই দলেই ছিলেন তিনি।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 01:38 PM Jan 15, 2026Updated: 04:22 PM Jan 15, 2026

গত বছর পাকিস্তানে তীর্থ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। তারপর ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন এক পাক নাগরিককে। সেখানেই সংসার পেতে বসেন তিনি। বর্তমানে পাঞ্জাবের সেই প্রৌঢ়া সরবজিৎ কৌরের দিন কাটছে চরম দুর্দশার মধ্যে দিয়ে।

Advertisement

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানেই সরবজিৎ তাঁর করুন অবস্থার কথ জানিয়েছেন। যদিও সেই অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। প্রৌঢ়া বলেন, “আমি খুব বড় ভুল করেছি। পাকিস্তানে আমার জীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে কাটছে। আমি ভারতে ফিরতে চাই। নিজের বাড়িতে ফিরতে চাই।” কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন সরবজিৎ। তিনি আরও বলেন, “আমি এখানে খুব অসহায়। আমি আমার সন্তানদের কাছে ফিরতে চাই। এক এক পয়সার জন্য আমি সংগ্রাম করছি।” সরবজিতের দাবি, সেখানে তাঁর পড়ার জমাকাপড় পর্যন্ত নেই। এমনকী প্রৌড়াকে প্রায় দিনের পর দিন হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। কিন্তু কে তাঁকে হেনস্তা করছেন? তাঁর স্বামী নাকি অন্য কেউ? সেটা স্পষ্ট করেননি সরবজিৎ। তবে অডিও বার্তার এক পর্যায়ে সরবজিৎকে তাঁর স্বামীর উদ্দেশে বলতে শোনা গিয়েছে যে তাঁকে যেন তিনি কষ্ট না দেন। তাঁর যেন কোনও ক্ষতি না করেন।

৫২ বছরের সরবজিৎ পাঞ্জাবের কাপুরথালার বাসিন্দা ছিলেন। গুরু নানকের ৫৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশপর্বে যোগ দিতে ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে ৪ নভেম্বর পাকিস্তানে প্রবেশ করেন ১৯৯২ জন তীর্থযাত্রী। ১০ দিন তাঁরা ছিলেন সেখানে। এরপর ১৩ নভেম্বর দলটি ফিরে আসে ভারতে। কিন্তু দেখা যায়, বাকিরা ফিরলেও কোনও খোঁজ নেই সরবজিতের। এরপর অভিবাসন দপ্তরের তরফে খবর দেওয়া হয় পাঞ্জাব পুলিশে। পুলিশ তদন্তে নেমে ভারতীয় এজেন্সিগুলিকে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট পাঠায়। এরপর ভারতের তরফে পাকিস্তানি সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারপর সামনে আসে আসল ঘটনাটি। জানা যায়, সরবজিৎ পাকিস্তানেই রয়েছেন। ধর্মান্তরিত হয় তিনি বিয়ে করেছেন নাসির হুসেন নামের এক স্থানীয়কে। লাহোর থেকে ৫৬ কিমি দূরে শেখপুরায় থাকতে শুরু করেছেন ওই প্রৌঢ়া। নাম বদলে এখন তাঁর নাম নুর। একটি নিকাহনামাও প্রকাশ্যে এসেছে।

দুই সন্তানের মা সরবজিৎ বিবাহ বিচ্ছিন্না। গত তিরিশ বছর ধরে তাঁর স্বামী ইংল্যান্ডে থাকেন। কেন হঠাৎ ওই প্রৌঢ়া এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তা জানা যায়নি। ওই যুবককে তিনি আগে থেকে চিনতেন কিনা তাও এখনও পরিষ্কার হয়নি। জানা গিয়েছে, ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে সরবজিৎকে ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কোনও অজ্ঞাত কারণে তা ভেস্তে যায়। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement