ক্রিকেট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা নমনীয় হলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে বুধবার লিটন দাসরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা পুরোপুরি ক্রিকেট বয়কট করবেন। বিসিবি কর্তা নাজমুল ইসলামের মন্তব্যের প্রতিবাদেই বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে ফিনান্স কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে নাজমুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপরই সুর নরম করেছেন ক্রিকেটাররা।
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় ক্রিকেটারদের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, 'আমাদের দেশের বর্তমান ক্রিকেট পরিস্থিতি নিয়ে আমরা এখনও আলোচনা করছি। বাংলাদেশের মহিলা দল বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে খেলছে, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে খেলছে যুব দল। সিনিয়র পুরুষ দলের সামনে রয়েছে টি-২০ বিশ্বকাপ। তাই সব ধরণের ক্রিকেট বয়কট করলে এই দলগুলি প্রভাবিত হবে। দেশের ক্রিকেটের স্বার্থেই আমরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছি।'
তাহলে কি শুক্রবার থেকেই মাঠে নেমে বিপিএল খেলবেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা? সেই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব মেলেনি বিবৃতিতে। নাজমুলকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ক্রিকেটারদের দাবি, তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। বিসিবির ডিরেক্টরের পদ থেকেও নাজমুলকে ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে। এই দুই শর্ত পূরণ হলে শুক্রবার থেকেই ক্রিকেটাররা মাঠে নামবেন। ক্রিকেটারদের যেহেতু প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে, তাই নাজমুল প্রকাশ্যেই ক্ষমা চাইবেন, এমনটাই আশা করছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অ্যাসোসিয়েশন।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ নিয়ে টালবাহানার মধ্যে নাজমুল বলে বসেন, "কোটি-কোটি টাকা খরচ করে ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ খেলতে পাঠানোর পরেও যদি তাঁরা কিছু না করতে পারেন, তখন কী হবে? ক্রিকেটারদের থেকে কি টাকা ফেরত চাওয়া হবে?" এই মন্তব্যের পালটা দিয়ে তারকা স্পিনার মেহদি হাসান মিরাজ বলেন, "আমরা খেলি বলেই বোর্ড অর্থ উপার্জন করে। ক্রিকেটাররা মাঠে নামেন বলেই বোর্ড আজ এই পর্যায়ে উঠে আসতে পেরেছে।" শেষ পর্যন্ত নাজমুল ক্ষমা চাইবেন কিনা, তার উপর অনেকখানি নির্ভর করছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ।
