মুছে যেতে চলেছে ৮০ বছরের পুরনো রাষ্ট্রসংঘের অস্তিত্ব! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সাম্প্রতিক বয়ানে সেই সম্ভাবনাই জোরালো হয়ে উঠছে। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে 'বোর্ড অফ পিস' (Board Of Peace)-এর পক্ষে সওয়াল করলেন ট্রাম্প। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘের জায়গা নিতে পারে এই বোর্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন বয়ান সামনে আসার পর স্বাভাবিকভবেই শোরগোল শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রসংঘের তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, রাষ্ট্রসংঘের হাতে বিপুল ক্ষমতা রয়েছে এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে কার্যক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘ একেবারেই সফল নয়। এই সংস্থা কখনও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা বা দুটি দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারেনি। রাষ্ট্রসংঘ যে কাজ পারেনি সেই কাজই সফলভাবে করতে সক্ষম 'বোর্ড অফ পিস'। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিবৃতিতে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন বিশ্বনেতারা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গাজায় শান্তির লক্ষ্যে তৈরি করা এই 'বোর্ড অফ পিস'-এর চেয়ারম্যানের পদে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই বোর্ডকে অস্ত্র করে বিশ্বকে শাসন করার ভয়ংকর ব্লুপ্রিন্ট সাজাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হোয়াইট হাউসের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, বিশ্বে শান্তি বজায় রাখার জন্য কাজ করবে ট্রাম্পের 'বোর্ড অফ পিস'। প্রাথমিকভাবে তা শুরু হবে গাজা দিয়ে। নয়া এই বোর্ডের সর্বেসর্বা ট্রাম্প নিজে। তাঁর হাতেই থাকবে যাবতীয় ক্ষমতা। এই বোর্ডের সদস্য হওয়ার জন্য বিশ্বের ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। ভারত, পাকিস্তানের পাশাপাশি আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে রাশিয়া, হাঙ্গেরি, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেনের মতো দেশগুলিকে। জানা যাচ্ছে, এই বোর্ড অফ পিস-এ যোগ দিলে প্রাথমিকভাবে ৩ বছরের জন্য এই গোষ্ঠীর সদস্যপদ পাওয়া যাবে। তবে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে গেলে ব্যয় করতে হবে ১০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা)। রয়টর্স সূত্রে খবর, বাকিদের জন্য এই নিয়ম লাগু হলেও আমেরিকার ক্ষেত্রে এই সদস্যপদের নিয়ম প্রযোজ্য নাও হতে পারে। প্রথম থেকেই এই বোর্ডের স্থায়ী সদস্য থাকবে আমেরিকা।
উল্লেখ্য, গাজায় শান্তি রক্ষায় গত বছরের নভেম্বর মাসে এই 'বোর্ড অফ পিস'কে অনুমোদন দিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘ। প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই বোর্ডের মেয়াদ ও এর কাজ হবে শুধুমাত্র গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্রসংঘে এই প্রস্তাব পেশ হওয়ার সময় ভোটদানে বিরত ছিল রাশিয়া ও চিন। তখনই আশঙ্কা করা হচ্ছিল এই বোর্ডের সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের সংঘাত শুরু হতে পারে। আমেরিকাকে মাথায় রেখে এই বোর্ড গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। এবার এই বোর্ডকে হাতিয়ার করেই রাষ্ট্রসংঘকে মুছে ফেলার ইঙ্গিত দিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
