দাঁড়ি পড়তে চলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান জয়ের স্বপ্নে! মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নিতে পারে মার্কিন সেনেট। জানা যাচ্ছে, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ট্রাম্পের হাতে রয়েছে মাত্র ৭দিন সময়। এরপর ইরানে কোনও হামলা করতে গেলে অনুমতি নিতে হবে সেনেটের। সেখানেই বাঁধছে সমস্যা। ডেমোক্র্যাট তো বটেই খোদ ট্রাম্পের দলের বহু সেনেটর এই যুদ্ধের বিরোধী।
আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী, কোনও যুদ্ধ শুরু হলে এবং সেই যুদ্ধ জারি রাখতে হলে ৬০ দিনের মধ্যে সেনেটের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। যদিও ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে কিছুটা কারসাজি করেছিলেন ট্রাম্প। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা হলেও ২ মার্চ সেনেটকে এই বিষয়ে অবগত করা হয়। সেই হিসেবে ১ মে শেষ হচ্ছে ৬০ দিনের মেয়াদ। যুদ্ধ চালাতে গেলে এর আগেই সেনেটের অনুমতি প্রয়োজন ট্রাম্পের। তবে রিপোর্ট বলছে, ট্রাম্প সেনেটের মুখোমুখি হতে চান না। ১০০ সদস্যের সেনেটে ট্রাম্পের দলের সেনেটরের সংখ্যা ৫৩ জন। ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য সংখ্যা ৪৭। যদিও রিপাবলিকান পার্টির ১০ জনের বেশি সাংসদ সরাসরি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন।
১০০ সদস্যের সেনেটে ট্রাম্পের দলের সেনেটরের সংখ্যা ৫৩ জন। ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য সংখ্যা ৪৭। যদিও রিপাবলিকান পার্টির ১০ জনের বেশি সাংসদ সরাসরি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন।
তাছাড়াও, ছোট যুদ্ধ বলে যা শুরু করেছিলেন ট্রাম্প, এতদিন পরেও এই যুদ্ধে কোনও রকম সাফল্যের মুখ দেখেনি আমেরিকা। বরং অর্থের শ্রাদ্ধ হয়েছে। হরমুজ বন্ধ হওয়ায় ধাক্কা খেয়েছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি। এই অবস্থায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন হয়ত নাও পেতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের হাতে যে বিকল্প রয়েছে তা হল, ১ মের আগে যে কোনওভাবে এই যুদ্ধ বন্ধ করা। যদিও যুদ্ধ জারি রাখার আরও একটি বিকল্প উপায় রয়েছে ট্রাম্পের কাছে। ৬০ দিনের পর একবারের জন্য ৩০ দিনের অতিরিক্ত সময় পেতে পারেন ট্রাম্প। এরপর যুদ্ধ বন্ধ করার প্রবল চাপ আসবে সেনেটের তরফে।
অবশ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে সংবিধান বলে বিশেষ অধিকার পেয়ে থাকেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যেমন ২০১১ সালে বারাক ওবামা ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে সামরিক কার্যকলাপ জারি রেখেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ওই আইন লিবিয়াতে লাগু হয় না কারণ ওই দেশে লাগাতার লড়াইয়ের পরিস্থিতি চলছে। ২০১৯ সালেও ট্রাম্প নিজের প্রথম কার্যকালে এই প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিলেন। এইসময়ে ইয়েমেনে যুদ্ধ চালাচ্ছিল আমেরিকা।
