আশঙ্কা সত্যি করে ফের শুরু হতে চলেছে ইরান যুদ্ধ (Iran War)? তেমনটাই ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষে কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তেহরানে বড় হামলা চালাতে প্রস্তুত আমেরিকা।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “ইরানে আরও বড় আঘাত হানতে হতে পারে। এখনও নিশ্চিত নই। তবে আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। শীঘ্রই সবাই জানতে পারবেন। ইরানের সঙ্গে আমরা স্বল্প সময়ের জন্য আলোচনা চালাতে প্রস্তুত। দুই বা তিনদিনের জন্য। কিন্তু যদি ওরা আমাদের শর্ত মানতে অস্বীকার করে, তাহলে তেহরানে আমাদের ফের সামরিক অভিযান চালাতে হবে। সেটা হতে পারে চলতি সপ্তাহের শুক্রবার কিংবা শনিবার অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে। ওদের কাছে পরমাণু অস্ত্র আমরা থাকতে দেব না।” ট্রাম্পের এই হুমকির পালটা দিয়েছে তেহরানও।
আপাতত ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষবিরতি চললেও, পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে গুরুতর আকার নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের পরবর্তী রণকৌশল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আমেরিকার দেওয়া শর্ত যদি ইরান না মানে সেক্ষেত্রে নতুন করে হামলা হতে পারে ইরানের মাটিতে।
উল্লেখ্য, চুক্তির লক্ষ্যে আমেরিকা ইরানকে যে ৫ শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরানকে একটি পরমাণু ঘাঁটি চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধের জেরে ইরান যে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল আমেরিকার কাছে, তা কোনওভাবেই দেওয়া না। দাবি অনুযায়ী, ইরানকে ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে। আমেরিকা ইরানের যে বৈদেশিক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে তার ২৫ শতাংশও ফেরানো হবে। অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানের দাবিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সতর্ক করে বলেন, "এই যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।"
