মার্কিন আগ্রাসনের কোপে এবার মধ্যপ্রাচ্যের আর এক দেশ ইরাক। তেল নির্ভর অর্থনীতির এই দেশে আমেরিকার পছন্দের প্রধানমন্ত্রী না হলে সবরকম সাহায্য বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান-আমেরিকা সংঘাতকে কেন্দ্র করে ফের যুদ্ধের সিঁদুরে মেঘ জমেছে মধ্যপ্রাচ্যে। এরইমাঝে ইরাকের উদ্দেশে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আসলে ইরাকের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে দাঁড়িয়েছেন সেখানকার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নৌরি আল-মালিকি। যিনি শিয়া গোষ্ঠীভুক্ত এবং ইসলামিক দাওয়া পার্টির প্রধান। ইরাকের পার্লামেন্টে এই গোষ্ঠীরই দাপট। যারা আবার ইরানপন্থী। এই শিয়া গোষ্ঠীর তরফেই নৌরির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ঘটনায় তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার আশঙ্কা নৌরি ফের প্রধানমন্ত্রী হলে ইরানের সঙ্গে ইরাকের ঘনিষ্ঠতা বাড়বে। তা হলে ইরাকে মার্কিন স্বার্থ খুন্ন হবে।
গোটা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বুধবার সোশাল মিডিয়ায় ইরাককে হুঁশিয়ারির সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'আমি শুনেছি ইরাকের মতো মহান দেশে ফের একবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে চলেছেন নৌরি আল-মালিকি। এটা ইরাকের জন্য এক বিরাট ভুল সিদ্ধান্ত হতে চলেছে। শেষবার যখন মালিকি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন দেশটিতে দারিদ্র চরম আকার নিয়েছিল, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল গোটা দেশে।' একইসঙ্গে ট্রাম্প লেখেন, 'সেই দুরবস্থা আবারও ফিরিয়ে এনা একেবারেই উচিত নয়। আর যদি তিনি নির্বাচিত হন এবং দেশে নিজের উন্মাদ নীতি লাগু করেন তাহলে আমেরিকা ইরাকে যাবতীয় সাহায্য বন্ধ করে দেবে। এমনটা হলে ইরাকের উন্নতি ও স্বাধীনতার সম্ভাবনা শূন্যে নামবে। আমি চাই ইরাক আবার মহান হয়ে উঠুক।'
সূত্রের খবর, নৌরির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা আটকাতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে আমেরিকা। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও সম্প্রতি ইরানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ শিয়া আল-সুদানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। যেখানে তিনি জানিয়েছেন, ইরাকে ইরানপন্থী সরকার তৈরি হলে তা মধ্যপ্রাচ্য এবং আমেরিকার জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ হবে। উল্লেখ্য, ৭০-এর দশকে এই নৌরি ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বিরোধিতায় সরব হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালের মার্কিন আগ্রাসনের পরে মৃত্যুদণ্ড এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান আল-মালিকি এবং ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি নির্বাসনে ছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।
