মার্কিন শুল্কের 'নাগপাশ' ছাড়িয়ে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে ভারত। মঙ্গলেই স্বাক্ষরিত হতে চলেছে ঐতিহাসিক ভারত-ইউরোপ বাণিজ্য চুক্তি। এই ঘটনায় চটে লাল আমেরিকা। ইউরোপকে রুশ তেলের জুজু দেখিয়ে ওয়াশিংটনের দাবি, এই ঘটনা আসলে নিজেই নিজের কবর খোঁড়া। আমেরিকার অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট জানালেন, এই বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপ নিজেই নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থ জোগাচ্ছে।
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধকে জুড়ে ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনায় সরব হন বেসেন্ট। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ভারতকে তেল বিক্রি করে সেই টাকায় ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ করছে রাশিয়া। এই ঘটনা বন্ধ করতে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। শুধু আমেরিকা নয়, এই যুদ্ধে শুরু থেকেই ইউক্রেনকে সমর্থন করে এসেছে ইউরোপও। এই অবস্থায় ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে বেসেন্ট বলেন, "আপনারা বুঝতে পারছেন না, কীভাবে আপনারা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থ জোগাচ্ছেন।" আমেরিকার যুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার থেকে কেনা তেলের মাধ্যমে ভারতে উৎপাদিত পণ্য কিনবে ইউরোপ। যার অর্থ হল, ইউরোপ সেই পণ্য কিনে ঘুরিয়ে রাশিয়াকে সাহায্য করবে।
অবশ্য রুশ তেল নিয়ে আমেরিকার এহেন ছেঁদো যুক্তি দীর্ঘদিনের। আমেরিকা বারবার অভিযোগ করেছে, রাশিয়ার থেকে তেল কিনে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধের মেশিনে অর্থ জোগাচ্ছে ভারত। যদিও সেই অভিযোগ খারিজ করে নয়াদিল্লি একাধিকবার জানিয়েছে, ভারতের দিকে আঙুল তোলা আমেরিকা নিজে রাশিয়ার থেকে ইউরেনিয়াম-সহ বিপুল পণ্য কেনে। যদিও পরবর্তীতে আমেরিকা নিজে স্বীকার করেছে ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা অনেক কমিয়েছে। শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়েও চিন্তাভাবনা শুরু করেছে তারা। আমেরিকার এই ছেঁদো যুক্তি শুনে কূটনৈতিক মহলের মত, আসলে ভারতের সঙ্গে মার্কিন চুক্তি আপাতত ঠাণ্ডা ঘরে চলে গিয়েছে, এই অবস্থায় ইউরোপ-ভারত বাণিজ্য চুক্তিকে মোটেই ভালো চোখে দেখছে না আমেরিকা।
উল্লেখ্য, ২০০৭ থেকে এই চুক্তি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের আলোচনা চলছে। দীর্ঘ ১৮ বছরের চেষ্টার পর অবশেষে মঙ্গলে বাস্তবায়িত হতে চলেছে চুক্তি। এই চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ আখ্যা দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। জানা যাচ্ছে, এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে কৃষিক্ষেত্র। তবে উৎপাদন, প্রযুক্তি, শক্তিসম্পদ, ওষুধের মতো ক্ষেত্রগুলিকে চুক্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
