ইরান যুদ্ধের (Iran War) ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। দি ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর খবর, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইজরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের জেরে অর্থনীতির উপর চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত ও কাতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলি তাদের বিনিয়োগ সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা, প্রতিশ্রুতি ও বাণিজ্যিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা করছে।
উপসাগরীয় দেশগুলির শীর্ষকর্তাদের উদ্ধৃত করে টাইমস তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, চলতি চুক্তিগুলির ক্ষেত্রে ‘ফোস ম্যাজ্যা’ (যুদ্ধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়জনিত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে চুক্তিমতো দায়িত্ব পালনের দায় থেকে সাময়িক বা পাকাপাকি অব্যাহতি দেওয়া) ধারা প্রয়োগ হবে কি না তা খতিয়ে দেখতে এই দেশগুলি ঘরোয়া আলোচনা শুরু করেছে। যুদ্ধজনিত কারণে আর্থিক বোঝার ভার লাঘব করতে চলতি ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও রিভিউ করছে তারা। রিভিউয়ের ফলে বিদেশের সরকার, কোম্পানিগুলিকে দেওয়া বিনিয়োগের আশ্বাস, স্পোর্টস স্পনশরশিপ ডিল, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। টাইমস জানাচ্ছে, প্রতিরক্ষা খরচ বৃদ্ধি, জ্বালানি রপ্তানি হ্রাসে উপসাগরীয় দেশগুলির সরকারি বাজেটে আর্থিক বোঝা বাড়ছে। পুরো বিষয়টি হোয়াইট হাউসের নজরেও এসেছে।
প্রতিরক্ষা খরচ বৃদ্ধি, জ্বালানি রপ্তানি হ্রাসে উপসাগরীয় দেশগুলির সরকারি বাজেটে আর্থিক বোঝা বাড়ছে। পুরো বিষয়টি হোয়াইট হাউসের নজরেও এসেছে।
ইরান বনাম ইজরায়েলি-মার্কিন সামরিক সংঘাতে উপসাগরে আর্থিক স্থিতিশীলতা মার খেয়েছে। জ্বালানি ব্যবসার মুনাফা বেশ কমেছে। চলতি সংঘাতে একাধিক ট্যাঙ্কারে হামলার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে অশোধিত তেল, পণ্যবাহী জাহাজ, ট্যাঙ্কার চলাচল চলছে ধীর গতিতে। গোটা দুনিয়ার মোট তেল, গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশই ওখান দিয়ে হয়। উপসাগরীয় দুনিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাস ও তাদের নানা পরিকাঠামোয় ইরানের হামলার পর পর্যটন, বিমান উড়ানও মার খেয়েছে।
গত বছর উপসাগরীয় দুনিয়া সফরে যান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উপসাগরীয় দেশগুলি আমেরিকায় কয়েকশো বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিশ্রুত বিনিয়োগের গতি ঢিমে হলে ওয়াশিংটনের উপরও যুদ্ধ থামানোর জন্য কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে এগনোর চাপ বাড়তে পারে।
এর মধ্যেই উপসাগরীয় বাণিজ্য মহলের প্রভাবশালী লোকজন চলতি সামরিক সংঘর্ষের তীব্র নিন্দা শুরু করেছেন। ট্রাম্পকে নিশানা করে এক্স পোস্টে দুবাইয়ের বিলিওনেয়ার খালাফ আহমেদ আল হাবতুর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে। লিখেছেন, আমাদের এই অঞ্চলকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষমতা আপনাকে কে দিল? কীসের ভিত্তিতে আপনার এই বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত? ট্রিগার টেপার আগে কি সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির হিসাব কষেছিলেন? ভেবে দেখেছেন কি যে, সংঘাত বাড়লে সবার আগে তার বলি হবে উপসাগরীয় দেশগুলিই!
