শোনা যাচ্ছে, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা (US-Iran Talks) করবে পাকিস্তান। এমনকী সেদেশেই হতে পারে শান্তিবৈঠক! রবিবার ইসলামাবাদ আবারও জানিয়েছে, তারা তাদের মাটিতে আলোচনার আসর বসাতে প্রস্তুত। কিন্তু এহেন পরস্থিতিতে পাকিস্তানের মুখে কার্যতই ঝামা ঘষে দিয়ে ইরান জানিয়ে দিল, এই ধরনের কোনও আলোচনায় বসছে না।
ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সোমবার জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে কোনও সরাসরি কথা নয়। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অযৌক্তিক সব দাবি উঠতে শুরু করেছে। তাঁর কথায়, ''আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। পাকিস্তানের বিষয়টা তাদের নিজস্ব বিষয়, আমরা তাতে অংশগ্রহণ করব নায যুদ্ধ থামাতে স্থানীয় আহ্বানকে স্বাগত। কিন্তু যেন মনে রাখা হয় কারা এটা শুরু করেছিল।'' উল্লেখ্য, রবিবার সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। আর এরপরই সোমবার এমন মন্তব্য করে ইরান বুঝিয়ে দিল তারা আদৌ আগ্রহী নয়।
২৬ দিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে ইরানকে যে ১৫ দফা শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের খবর, ট্রাম্প প্রশাসনের ওই প্রস্তাব পাকিস্তানই পৌঁছে দিয়েছিল ইরানের কাছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে হঠাৎই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠেছে শাহবাজ শরিফ সরকার। এদিকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর আগেই পরোক্ষে পাকিস্তানকে খোঁচা দিয়ে জানিয়েছেন, ভারত ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দালালি করবে না।
এদিকে ইরান যুদ্ধে এবার অন্তিম আঘাতের পরিকল্পনা করছে মার্কিন সেনা। ট্রাম্পের নির্দেশে ইতিমধ্যে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে পৌঁছে গিয়েছে মুখোমুখি যুদ্ধে পারঙ্গম হাজার হাজার স্থলসেনা। শেষ মুহূর্তের দাবার চাল সাজাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। যুদ্ধ কি থামবে? নাকি তা এভাবেই আরও তীব্র আকার ধারণ করতে থাকবে? যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত গোটা বিশ্ব।
