মাদক সম্রাটের মৃত্যুর পর কার্যত জ্বলছে মেক্সিকো (Mexico)। শোনা যাচ্ছে, দেশের পশ্চিম প্রান্তে মাদক পাচারকারীরা পথে নেমে হিংস্র প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। ইতিমধ্যেই মেক্সিকোর বিশেষ বাহিনির ২৫ জন সেনার মৃত্যুর খবর এসেছে। সবমিলিয়ে অন্তত ১১ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে উত্তপ্ত এলাকায়। মেক্সিকো থেকে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত বের করে আনতে উদ্যোগী হয়েছে আমেরিকার একটি সংস্থা।
সেনা অভিযানে রবিবার মৃত্যু হয়েছে কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিও রুবেন ওসেগেরা সেরভান্তেসের। যাঁকে এল মেনচো নামে চেনে গোটা বিশ্ব। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আমেরিকা। এল মেনচোর মৃত্যুতে কার্যত আনন্দ প্রকাশ করে পোস্ট করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু মাদক সম্রাটের মৃত্যু ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে আমেরিকার পড়শি দেশটি।
সংবাদসংস্থা আল জাজিরা সূত্রে খবর, দেশজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে মেক্সিকোর মাদক কারবারিরা। বাস জ্বালিয়ে, দোকানপাট পুড়িয়ে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন তাঁরা। মেক্সিকোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুল বাহিনী পথে নামিয়েছে মেক্সিকো প্রশাসন। মূলত দেশের পশ্চিমপ্রান্তে ছড়াচ্ছে হিংসা। গত দু'দিনে ওই অঞ্চলে ১১ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ন্যাশনাল গার্ডের সঙ্গে সমানে সংঘর্ষ চালাচ্ছে মাদক কারবারিরা। ২৫ জন ন্যাশনাল গার্ডের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। নিহত অন্তত ৩০ প্রতিবাদীও।
এহেন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে মেক্সিকোতে কর্মরত সকল কর্মীকে আমেরিকায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে একটি মার্কিন সংস্থা। মেক্সিকো থেকে যে'কটি বিমান আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে, প্রত্যেকটিতেই ওই সংস্থা টিকিট কেটে রাখছে। সেই টিকিটে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে সংস্থার কর্মীদের। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মেক্সিকোয় থাকা ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতীয় দূতাবাস। জালিস্কো স্টেট, তামাউলিপাস স্টেট, মিচোয়াকান স্টেট, গুয়েরেরো স্টেট এবং নুয়েভো লিওন স্টেটের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাম জানিয়েছেন, আমজনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
