শাহবাজ সরকারের রোষানলে পড়ে জেলে জীবন কাটছে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) দাবি আদিয়ালা জেলে ভয়ংকর স্বাস্থ্য সংকটে ইমরান। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না তাঁর। এমনটা চলতে থাকলে চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারেন তিনি।
পিটিআই-এর দাবি অনুযায়ী, মেডিকেল রিপোর্টে জানা গেছে ইমরান খানের ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন রয়েছে। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর ফলে চোখের শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যদি এই অসুখের দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে তিনি চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। এদিকে সবকিছু জানা সত্ত্বেও ইমরান খানের শারীরিক সংকট নিয়ে ছেলেখেলা করছে জেল কর্তৃপক্ষ। এই রোগের চিকিৎসার জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন বিশেষ অপারেশন থিয়েটারের প্রয়োজন। অথচ কারাগারে চূড়ান্ত অব্যবস্থার মধ্যেই চিকিৎসা করানো হচ্ছে তাঁর। যার অর্থ বিষয়টিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করছে সরকার।
শুধু তাই নয়, ইমরানের দলের দাবি, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে ইমরানকে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও, তার কোনও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়নি। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে নিয়মিত চেকআপের জন্য একটি আবেদন জানানো হয়েছিল যা এখনও বিচারাধীন। তাঁর পরিবারকেও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তোষাখানা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইমরান। প্রথমে তাঁর ঠাঁই হয়েছিল পাঞ্জাব প্রদেশের অটোক জেলে। সেখান থেকে তাঁকে স্থানান্তর করা হয় রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে। গত ৩ বছর ধরে এই জেলেই বন্দি তিনি। কেবল ইমরান নয়, তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও হেনস্তা করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে ২০০র বেশি মামলা ঝুলছে ইমরানের বিরুদ্ধে। যদিও তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতার দাবি, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে তাঁকে গারদের ওপারে আটকে রাখা হয়েছে।
