ইরানে (Iran) মরণকামড় দেওয়ার দিনক্ষণ বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন (USA) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরেই নাকি সংঘর্ষবিরতির (Ceasefire) পথে হাঁটছে দুই পক্ষ! সূত্রের খবর, আপাতত ৪৫ দিনের জন্য় সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মাধ্যমে এখনও দর কষাকষি চলছে। আলোচনা হচ্ছে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে।
রবিবার রাতে ছাপার অযোগ্য ভাষায় ইরানকে গালিগালাজ করেন ট্রাম্প। সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, “… প্রণালীটা খুলে দে, পাগল … কোথাকার, নইলে তোদের নরকে ঠাঁই হবে। আল্লাহকে ডাক!” ইঙ্গিত দেন, আগামী মঙ্গলবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালাবে আমেরিকা। ধ্বংস করা হবে সমস্ত সেতুও। সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্প জানান, মঙ্গলবার রাত আটটায় হামলা হবে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, বুধবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন ডেডলাইনের পরেই সংঘর্ষবিরতির জন্য উঠেপড়ে লেগেছে মধ্যস্থতাকারীরা।
আপাতত যা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে, তাতে প্রথম পর্যায়ে ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধ বন্ধ থাকবে। ওই সময়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে যুদ্ধ পাকাপাকিভাবে শেষ করা নিয়ে। ওই ৪৫ দিনের মধ্যেই চুক্তি সই করা যেতে পারে। তবে ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষ হতে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় বাকি। সেই সময়ের মধ্যে দুপক্ষ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হবে, এমনটা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। সূত্রের খবর, আমেরিকার তরফ থেকে ইতিমধ্যেই ইরানকে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনওটাই মানেনি ইরান।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প আগেও হুমকি দিয়েছিলেন, সোমবারের মধ্যে হরমুজ খুলে না দিলে ইরানে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ ডেকে আনবেন। এর পরেও অবশ্য কাজ হয়নি। উলটে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছে তেহরান। হরমুজ না খুললে ইরানকে নরক বানিয়ে ছাড়বেন, ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে এবার হুঙ্কার দিয়েছেন ট্রাম্প। সেকারণেই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে জোর দিচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলি। কিন্তু ইরান কি আমেরিকার হুঙ্কারের পর যুদ্ধ থামাতে রাজি হবে? নাকি মার্কিন হামলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে?
