আমেরিকা যদি বুনো ওল, হয় ইরান তবে বাঘা তেঁতুল। সমঝোতায় রাজি না হলে মঙ্গলবার রাত ৮টার পর ইরানের পাওয়ার প্লান্ট ও সেতুগুলিতে ভয়ংকর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদি এই ধরনের কোনও হামলা হয় তবে কার্যত বিকলাঙ্গ হয়ে যাবে ইরান। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমেরিকার উপর চাপ বাড়িয়ে এবার সমস্ত পাওয়ার প্লান্টগুলিতে মানব বন্ধনের ডাক দিল ইরান সরকার। মঙ্গলবার দুপুর ২টোর মধ্যে দেশের সমস্ত যুবক ও অ্যাথেলিটদের পাওয়ার প্লান্টগুলির সামনে জড়ো হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
মার্কিন আগ্রাসনকে রুখে দিতে ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রকের তরফে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে দেশের সমস্ত যুবসম্প্রদায়ের কাছে। মন্ত্রী বলেন, এই মানব বন্ধন তৈরির প্রস্তাব দেশের যুবসম্প্রদায়ের কাছ থেকেই এসেছে। তিনি বলেন, 'ইরানের সকল যুবক, শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের এক হয়ে এই লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এটা হবে একটি প্রতীকী বিক্ষোভ যা আমেরিকাকে দেখিয়ে দেবে, কারও আগ্রাসনের কাছে মাথা নত না করে আমাদের দেশের তরুণরা তাঁদের সম্পদ রক্ষা ও দেশবাসীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে বদ্ধপরিকর।'
কারও আগ্রাসনের কাছে মাথা নত না করে দেশের তরুণরা তাঁদের সম্পদ রক্ষা ও দেশবাসীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে মাসাধিক কাল যাবৎ অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। জ্বালানি সংকটে ভুগছে গোটা পৃথিবী। দোষের ভাগিদার হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অবস্থায় গত রবিবারই তিনি বড় হুমকি দিয়েছেন তেহরানকে। সোশাল মিডিয়ায় তাঁকে লিখতে দেখা গিয়েছে, ‘মঙ্গলবার ইরানে একই সঙ্গে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ এবং ‘সেতু দিবস’ পালিত হবে। আগে যেমনটা হয়নি!’ মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইরানের সময় অনুযায়ী বুধবার দুপুর ৩.৩০) মধ্যে ইরান যদি আত্মসমর্পণ না করে তবে সব ধ্বংস করে দেওয়া হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ''মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি হামলা হবে এবং আগামিকাল তাঁর চেয়েও বেশি।" ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, "এক রাতের মধ্যে পুরো দেশ দখল হয়ে যেতে পারে, তবে সেই রাতটি আগামিকালও হতে পারে।''
তবে মার্কিন হুমকির কাছে নাথানত করতে নারাজ ইরান। তাদের নৌসেনার তরফে জানানো হয়েছে, ”এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর বিদেশি আধিপত্যের যুগ নিশ্চিতভাবেই শেষ হয়ে গিয়েছে। হরমুজ প্রণালী আর আগের অবস্থায় কখনওই ফিরবে না। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইহুদি দেশের (ইজরায়েল) জন্য।” পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে ইরান তাদের সার্বভৌম ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রক্ষা করেই যাবে। এই অবস্থায় আমেরিকাকে রুখতে মানবতাকে ঢাল করল ইরান।
