টানা ছয় রাতের যুদ্ধে এবার একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করল ইরান। বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের একাধিক বেসামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাল মার্কিন সেনা। তিনটি সেতু, একটি রেল স্টেশন এবং বিমানবন্দরে হামলা চালানোর খবর মিলেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় হামলায় জর্ডনের মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা একাধিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করল তেহরান। যদিও জর্ডন সেনা জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষার মাধ্যমে তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানের রেভেলিউশারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডনের মার্কিনঘাঁটিতে থাকে একাধিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। আরও অনেকে ফাইটার জেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জর্ডনবাসীর প্রতি আইআরজিসির বার্তা, ইসলাম-বিদ্বেষী আমেরিকানদের উপর হামলা চালান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানশহরে সেনা হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে সিরিয়ার আল-তানফেতে অবস্থিত একটি আমেরিকান স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। এখনও পর্যন্ত ইরানের দাবির পালটা বিবৃতি দেয়নি আমেরিকা।
প্রসঙ্গত, গতকাল রাতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর ও দ্বীপগুলি আমেরিকার হামলার শিকার হয়েছে। আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাশতি, বোস্তান, সিরিক ও বন্দর-এ-লেঙ্গেহ এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। হামলায় আগের রাতের তুলনায় পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। বন্দর-এ-খামিরের কাছে তিনটি সেতুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং বন্দর আব্বাসের ‘তাপেহ আল্লাহ আকবর’ এলাকা-সহ আরও কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বায়ুসেনা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজগান প্রদেশে সড়ক ও রেলপথ লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। ইরানশহরে একটি হামলায় ক্ষতি হয়েছে স্থানীয় বিমানবন্দরে। শহরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশ দ্বীপেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে, যার ফলে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বলা বাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধ বাঁধায় চিন্তায় ভারত। এর জেরে নতুন করে জ্বালানি-সহ বিভিন্ন সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
