একদিকে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিয়ে কথা চলছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে। তার মধ্যেই মার্কিন ড্রোন ইউএস এমকিউ-৯-কে গুলি করে নামানো হয়েছে বলে দাবি করল তেহরান। খামেনেইর দেশের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পের (আইআরজিসি) তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের আকাশসীমার মধ্যে ঢুকে পড়েছিল মার্কিন ড্রোনটি। এর পরেই সেটিকে গুলি করে নামানো হয়। এছাড়াও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশে ঢোকার চেষ্টা করলে, সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
আইআরজিসি-র সাফ কথা, আমেরিকা কোনও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পদক্ষেপ করলে পালটা জবাব দেওয়ার 'বৈধ ও সুনির্দিষ্ট' অধিকার রয়েছে ইরানেরও। এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই একটি বিবৃতি প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিগুলো আর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলির “ঢাল” হিসেবে কাজ করবে না। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনও “নিরাপদ আশ্রয়স্থল” থাকবে না। তিনি লেবানন-সহ ‘বিরোধী অক্ষশক্তির’ বিজয় দাবি করে বলেছেন, ইরানের সেনা আমেরিকা ও ইজরায়েলকে শিক্ষা দিয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম দেশ এবং অন্য বন্ধু দেশগুলিকে অভিন্ন স্বার্থে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কয়েকঘণ্টার মধ্যে উলটো ছবিটা দেখছে গোটা পৃথিবী। মঙ্গলবার ভোরে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরান রেভোলিউশনারি গার্ডের নৌকায় হামলা চালায় আমেরিকা (US Attacks Iran)। এই হামলায় চারজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মার্কিন সেনার তরফে জানানো হয়, আত্মরক্ষায় এই হামলা চালানো হয়েছে। কারণ ওই নৌকাগুলি সমুদ্রের তলদেশে মাইন পোঁতার কাজ করছিল। ওই ঘটনার পরে গুলি করে মার্কিন ড্রোন নামাল আইআরজিসি। পাশাপাশি একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করেও গুলি চালায় আইআরজিসি।
