ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান। তেহরানের দাবি, আমেরিকা প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ। এখনও তারা প্রণালীতে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। লাগাতার এই টানাপোড়েনের জেরে আদৌ কি মিটবে দু’দেশের সংঘাত? এই প্রশ্নটাই এখন জোরাল হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ইজরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে দশদিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তারপরই শুক্রবার সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। কিন্তু ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান-আমেরিকার মধ্যে শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রণালী বন্ধ রাখতে আমেরিকা সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে 'জবাব' দিল তেহরান। শনিবার ফের তারা বন্ধ করে দিল গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ইরান হরমুজ খুলে দেওয়া সত্ত্বেও আমেরিকা ওই জলপথে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত ইরানগামী সমস্ত জাহাজের অবাধ চলাচল আমেরিকা নিশ্চিত করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ বন্ধই থাকবে।
এদিকে সব ঠিকঠাক থাকলে সোমবার ইসলামাবাদে বসতে চলেছে ইরান-আমেরিকার দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা। সেক্ষেত্রে রবিবারই পাকিস্তানে পৌঁছে যেতে পারেন দুই পক্ষের প্রতিনিধি দল। শোনা যাচ্ছে, এবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টও। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই যুদ্ধ নিয়ে আলাদা করে আলোচনা সেরে ফেলেছে তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ-কাতার, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ নিয়ে ফের জটিলতা সৃষ্টি হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের আগে এই খবর অত্যন্ত নেতিবাচক। আদৌ দু'পক্ষ সমঝোতায় আসতে পারবে কি না সেটাই বড় প্রশ্ন।
