পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি। তার আগেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লাগাতার মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলল ইরান। ইরানের স্পিকার মহম্মদ ঘালিবাফ জানালেন, 'ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘণ্টায় ৭টি দাবি করেছেন। তার সবকটিই মিথ্যা।' একইসঙ্গে তাঁর দাবি, 'আমেরিকা এই যুদ্ধ জিতবে না এবং আলোচনাতেও কোনও ফল হবে না।'
এদিন এক্স হ্যান্ডেলে ঘালিবাফ লেখেন, 'আমেরিকা সোশাল মিডিয়ায় মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এতে অবশ্য ইরানের মানুষের কোনও ক্ষতি হবে না।' এরপরই হরমুজ প্রসঙ্গে লেখেন, 'আমেরিকা যদি অবরোধ না তোলে তবে হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ করে দেওয়া হবে। হরমুজ দিয়ে যাতায়াত শুধুমাত্র ইরানের নির্ধারিত পথেই সম্ভব। এর জন্য ইরানের অনুমতি নিতে হবে।' এর সঙ্গেই তিনি লেখেন, 'মাত্র এক ঘণ্টায় ৭টি দাবি করেছেন ট্রাম্প। যার সবকটিই মিথ্যা।'
ইরান জানিয়েছে, 'আমেরিকা যদি অবরোধ না তোলে তবে হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ করে দেওয়া হবে। হরমুজ দিয়ে যাতায়াত শুধুমাত্র ইরানের নির্ধারিত পথেই সম্ভব।'
যদিও সেই মিথ্যাগুলি কী কী সে বিষয়ে বিশদে কিছুই জানানো হয়নি। অনুমান করা হচ্ছে, এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়া। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, “ইরান তাদের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দেবে। এর জেরে দু’পক্ষের মধ্যে ছয় সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি আমরা।” তবে সে দাবি খারিজ করে ইরান জানিয়েছিল, "শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকার কোনও বহিরাগত শক্তির অনুগ্রহ নয়, যে সংঘাতের সময়ে প্রত্যাহার করা হবে। যতদিন ইরান এনপিটি-র সদস্য থাকবে, ততদিন এই চুক্তির সমস্ত বিধানের পূর্ণ সুবিধা তার পাওয়া উচিত। কারও হাতে ইউরেনিয়াম তুলে দেওয়া হচ্ছে না।”
এদিকে ইরানের এই বিবৃতি সামনে এসেছে হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্পের দাবির পর। যেখানে ট্রাম্প বলেন, 'ইরান হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে খুলে দিতে প্রস্তুত। ওরা আর এটা বন্ধ করবে না, এবং এই প্রণালীকে বিশ্বের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না।' তবে ইরান হরমুজ খুলে দিলেও আমেরিকা অবরোধ জারি রাখবে বলে জানায়। এর পালটা ইরানের তরফে জানানো হয়, আমেরিকা অবরোধ না তুললে ফের বন্ধ হবে হরমুজ। সেই হুঁশিয়ারির পর এদিন ফের হরমুজ বন্ধ করেছে ইরান।
