shono
Advertisement

Breaking News

Ayatollah Khamenei

আমেরিকা-ইজরায়েলের হানায় নিহত খামেনেই, ইরানে কি শেষের পথে মোল্লাতন্ত্র?

খামেনেইয়ের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পরিজনরাও। নিহত কন্যা, জামাই এবং নাতি-নাতনিরা। এমনটাই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে। 
Published By: Subhodeep MullickPosted: 08:33 AM Mar 01, 2026Updated: 09:54 AM Mar 01, 2026

ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির পরই নিশ্চিত করল তেহরান। খামেনেইয়ের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পরিজনরাও। নিহত কন্যা, জামাই এবং নাতি-নাতনিরা। এমনটাই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে।

Advertisement

রবিবার ভোরে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহিদ হয়েছেন। শনিবার তিনি তাঁর দপ্তরে কাজ করছিলেন। সেই সময়েই আমেরিকা-ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হানায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার। তিনি দেশের জনগণের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবর অনুযায়ী, তেহরানে খামেনেইর অফিস কার্যত ধুলিসাৎ। উপগ্রহ চিত্র এই ধ্বংসের প্রমাণ। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড করের সংবাদ শাখার দাবি, খামেনেই আত্মগোপন করেননি। তিনি নিজের কাজ করছিলেন। পালানোর ভুয়ো খবর ছড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে মানসিক যুদ্ধ চালানোর চেষ্টা হচ্ছিল।

১৯৩৯ সালে ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ খামেনেইয়ের। ক্রমশ তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা রুহোল্লাহ খোমেনেইয়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে ওঠেন তিনি। ইরানে তখন শাহ বংশের শাসন। পশ্চিমী দুনিয়া ঘেঁষা রাজবংশের হাত ধরে তেহরানে তখন ‘ইরান বসন্ত’। স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছেন মহিলারা। কট্টরপন্থী মানসিকতা ছুড়ে ফেলে পশ্চিমী হাওয়ায় গা ভাসিয়ে তরতরিয়ে এগিয়ে চলেছে ইরান। ইজরায়েল তখন বন্ধু দেশ। কিন্তু কথায় আছে, ‘চিরদিন কারোর সমানও নাহি যায়’। স্বজনপোষণ, দুর্নীতি, বিরোধীদের কণ্ঠস্বর দমন-সহ একাধিক অভিযোগে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে ইরান। পথে নামে আমজনতা। সেই সুযোগে মোল্লাতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় হয় 'ইসলামিক উগ্রপন্থীরা'। রাজা শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভী দেশ ছাড়েন ১৯৭৯ সালে। রুহোল্লাহ খোমেনেইয়ের হাত ধরে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় মোল্লাতন্ত্র। সেই সময় তাঁর 'ছায়াসঙ্গী' ছিলেন সদ্য প্রয়াত আয়াতোল্লা আলি খামেনেই।

গত বছরের শেষ থেকে ইরানে মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, ইরানে কি তাহলে সত্যিই মোল্লাতন্ত্রের অবসান ঘটবে? নাকি 'রিজিম চেঞ্জ' বা সরকার বদলের মার্কিন ও ইজরায়েলি চেষ্টা কি ব্যর্থ হবে? আবার একপক্ষের বক্তব্য, আমেরিকা-ঘনিষ্ঠ কোনও শাসক ইরানের গদিতে বসে ইসলামি শাসনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। তবে খামেনেইর উত্তরসূরী নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি তেহরান। জানা গিয়েছে, আপাতত গোটা প্রক্রিয়া চলবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান ও বিচারবিভাগের প্রধানের নজরদারিতে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন 'আয়াতোল্লা' বা সর্বোচ্চ নেতাও ইজরায়েলের খতম তালিকায় থাকতে পারেন। এদিকে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই আমেরিকা ও ইজরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক গার্ড। তাদের বিবৃতি, 'ইতিহাসের সব থেকে ভয়ানক হামলার সম্মুখীন হবে। দখলদার ও হানাদাররা (ইজরায়েল) মার্কিন সন্ত্রাসবাদীরা কেঁপে উঠবে।'

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement