ফের যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যে। শনিবার ইরানের মাটিতে বেলাগাম হামলা শুরু করেছে ইজরায়েল ও আমেরিকা। ইরান ও ইজরায়েল দুই দেশই ভারতের বন্ধু হওয়ার সুবাদে এই যুদ্ধে 'সিঁদুরে মেঘ' দেখছে দিল্লি। যুদ্ধের জেরে বিরাট আর্থিক ও কৌশলগত ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। অন্যদিকে, এই সংঘর্ষে লাভবান হতে পারে চিন ও পাকিস্তান।
ইরান ও ইজরায়েল দুই দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভারতের। দুই দেশের সঙ্গেই বিপুল বাণিজ্য করে নয়াদিল্লি। ইরান থেকে তেল ক্রয়ের পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইরানের চাবাহার বন্দর। এই বন্দর ব্যবহার করে ইরানের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে দিল্লি। পাশাপাশি চিন ও পাকিস্তানকে চাপে রাখতে চাবাহার বন্দর কৌশলগত দিক থেকে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যখন পাকিস্তানের গদর বন্দরে চিন ঢুকে পড়েছে, সেখানে চাবাহার সমঝোতা ভারতের কাছে কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধে চাবাহার বন্দরে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে, ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারে আমেরিকা। এমন পরিস্থিতিতে, পাকিস্তানও আমেরিকার থেকে অতীতের মতো বিশেষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই মধ্য এশিয়াতে ভারতের শক্তি কমাতে কোমর বেঁধে নেমেছে চিন ও পাকিস্তান। সেই লক্ষ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রণকৌশল সাজাচ্ছে চিন। চাবাহারের রাস্তা বন্ধ হলে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের বাণিজ্য প্রভাবিত হবে। পাশাপাশি কাজাখিস্তান, তুর্কমেনিস্তানের মতো দেশগুলির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হবে। এরই ফায়দা নিতে চায় চিন। যদি আফগানিস্তানে চিনের গতিবিধি বাড়তে শুরু করে তবে সেই লাভের গুড় খাবে পাকিস্তানও। এখানেই শেষ নয়, ইরানের পথে কাজাখস্তানের মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করে দিল্লি। এই পথেই ভারতে আসে রেয়ার আর্থ মিনারেল, ইউরেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। যুদ্ধে এইসব খনিজের আমদানি ব্যাহত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানে ২৫ হাজার ভারতীয়ের বাস। যুদ্ধ গুরুতর আকার নিলে তাঁদের সেখান থেকে ফেরাতে হবে ভারতকে।
এখানেই শেষ নয় কূটনৈতিক মহলের মতে, এই যুদ্ধে ভারতকে ব্যাকফুটে ফেলে ইরানের ঘনিষ্ঠ হতে পারে পাকিস্তান। বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও তা খুব একটা ভালো নয়। তবে ইরান দুর্বল হলে মুসলিম দেশ হিসেবে এই অঞ্চলে পাকিস্তানের জমি আরও শক্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে, ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারে আমেরিকা। এমন পরিস্থিতিতে, পাকিস্তানও আমেরিকার থেকে অতীতের মতো বিশেষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে। এর ফলে পাকিস্তানে আমেরিকার আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ বিপুল ভাবে বাড়তে পারে।
