ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের (US-Israel Attack Iran) যৌথ হামলায় ওলট-পালট পাকিস্তানের বিদেশনীতি। আমেরিকার বন্ধুবৃত্ত থেকে নিজেদের সরিয়ে এই হামলার তীব্র নিন্দা করল পাক সরকার। হামলার তীব্র নিন্দা করে ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে ফোন করেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশক দার। জানান, 'এই হামলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।' পাকিস্তানের এই অবস্থান আমেরিকার সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বে চিড় ধরাতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
অপারেশন সিঁদুরের পর ট্রাম্পের সামনে নত হয়ে আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্বের মালা গাঁথে পাকিস্তান। যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব আমেরিকাকে দিয়ে নোবেলের জন্যও ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করেন শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের ঢালাও প্রশংসা শোনা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের গলায়। তবে সেই বন্ধুত্বের মসৃণ পথে এক মুহূর্তে কণ্টকাকীর্ণ হয়ে উঠল ইরান যুদ্ধে। শনিবার ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের উপর হামলা চালায় আমেরিকা। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই-এর দপ্তরে চলে মুহুর্মুহু হামলা। তেহরান-সহ ইরানের বেশিরভাগ জায়গায় পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। পালটা জবাব দেয় ইরানও। ইজরায়েল-সহ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে চলে জবাবি হামলা।
'বন্ধু' আমেরিকাকে ধাক্কা দিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে ফোন করেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশক দার।
এহেন পরিস্থিতির মাঝেই 'বন্ধু' আমেরিকাকে ধাক্কা দিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে ফোন করেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশক দার। ইরানের উপর আমেরিকার এই হামলার তীব্র নিন্দা বলে তিনি জানান, 'এই হামলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।' পাশাপাশি বিবৃতি জারি করে পাক বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, 'অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের আবেদন জানাচ্ছে পাকিস্তান।'
যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আবেদন জানিয়েছে রাশিয়াও। রুশ বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, 'রাশিয়া আগের মতোই, আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে যে কোনও সাহায্যের জন্য প্রস্তুত।
