দীর্ঘ উত্তেজনার পর শনিবার সরাসরি ইরানের মাটিতে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। যৌথ হামলায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে ইরানের বহু জায়গা। মৃত্যু হয়েছে বহু সাধারণ নাগরিকের। ভয়ংকর সেই হামলার প্রথম ছবি ও ভিডিও এবার প্রকাশ্যে আনল ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। জানা যাচ্ছে, গত ১২ ঘণ্টায় ইরানকে তছনছ করেছে আমেরিকার বাঙ্কার ব্লাস্টার, টমাহকের মতো ভয়ংকর সব ক্ষেপণাস্ত্র।
ইরানের মাটিতে হামলার পর আইডিএফের তরফে এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, যেখানে বলা হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সেই হামলার ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে ইজরায়েলের তরফে। যেখানে দেখা যাচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে ইরানের একের পর এক ইমারত। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারপাশ। একাধিক সংবাদমাধ্যমের তরফে জানা গিয়েছে, ইরানকে ক্ষতবিক্ষত করতে ব্যবহার করা হয়েছিল আমেরিকার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র টমাহক।
ইরানের নিকটবর্তী সমুদ্রে ঘাঁটি গেড়ে থাকা মার্কিন রণতরী থেকে ছোড়া হয়েছিল এইসব ক্ষেপণাস্ত্র। মাটি থেকে মাত্র ৩০-৩৫ মিটার উচ্চতা দিয়ে উড়ে গিয়েছিল এই ক্ষেপণাস্ত্র। যার ফলে ইরানের রেডার তাকে চিহ্নিত করতে পারেনি। ৮০০ কিলোমিটার গতিতে ১৬০০ কেজি ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁত হামলা চালায় ইরানের মাটিতে। এর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইজরায়েলের ২০০ যুদ্ধবিমান একযোগে হামলা করে ইরানে। অন্তত ৫০০টি জায়গা ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তু। হামলার জেরে ইরানে প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
ইজরায়েলের ২০০ যুদ্ধবিমান একযোগে হামলা করে ইরানে। অন্তত ৫০০টি জায়গা ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তু।
শুধু তাই নয় জানা যাচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে জিবিইউ ২৮ ‘বাঙ্কার বাস্টার’ও ব্যবহার করেছে আমেরিকা। মাটি থেকে ২০০ ফুট নিচে লুকিয়ে থাকা শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে সক্ষম এই শক্তিশালী বোমা। ভূ-গর্ভস্থ বাঙ্কার ওড়াতে এর জুড়ি নেই। ১৪ হাজার কেজি ওজনের ইস্পাতের আবরণে মোড়া এই বোমা অনায়াসে ভেদ করতে পারে পাথর বা কংক্রিট। ২৪০০ কেজি বিস্ফোরকে ঠাসা পেলোড বহন করতে সক্ষম এই বোমা। বোমার ওজন ১৩,৬০৭ কেজি। যার দৈর্ঘ্য ২০.৭ ফুট। রেডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বি ২ স্টেলথ বোমারু বিমানই বহন করে এই বোমা।
