বিদেশের মাটিতেও অটুট শিকড়ের টান। আইইএম (IEM) গোষ্ঠীর ৩৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে লন্ডনের বুকে আয়োজিত হল এক বর্ণাঢ্য প্রাক্তনী সম্মেলন। গত শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, প্রায় সত্তর জন প্রাক্তনী এবং প্রবাসী তথ্যপ্রযুক্তি পেশাদার একত্রিত হয়েছিলেন এই বিশেষ অনুষ্ঠানে। বিলেতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা-বিনিময় সফরে আসা চ্যান্সেলর অধ্যাপক বনানী চক্রবর্তী এবং আইইএম-ইউইএম প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক অন্তরঙ্গ আলোচনায় যোগ দেন তাঁরা।
লন্ডনের এই সভায় উঠে এল বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয়—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এবং বদলে যাওয়া ভিসা নীতি। কেমব্রিজ, শেফিল্ড বা কিংস কলেজের মতো প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রাক্তনীরা জানান, মেধার জোরে শীর্ষ স্তরের সংস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নিতে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। তবে মুদ্রার উলটো পিঠও আছে। প্রবীণ তথ্যপ্রযুক্তি কর্তারা শোনালেন আশঙ্কার কথা। এআই-এর প্রভাবে শিল্পজগতে শুরু হয়েছে বড়সড় পুনর্গঠন। এক অভিজ্ঞ টিম লিডারের কথায়, "এক বছর আগেও আমার অধীনে ২৩ জন ডেভেলপার কাজ করতেন। আজ সেই সংখ্যাটা মাত্র ৯ এসে দাঁড়িয়েছে।" দেখা যাচ্ছে, উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে কম লোকবল নিয়েও ৫ গুণ দ্রুত গতিতে এবং নিখুঁতভাবে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিবিদদের টিকে থাকার রসদ দিলেন অধ্যাপক সত্যজিৎ চক্রবর্তী। তাঁর মতে, নতুন অর্থনীতির লড়াইয়ে জিততে হলে শুধু ডিগ্রিতে হবে না। জোর দিতে হবে যোগাযোগ দক্ষতা এবং হাতে-কলমে এআই টুল ব্যবহারের ওপর। পাশাপাশি, ছাত্রাবস্থা থেকেই বিকল্প আয়ের পথ বা 'সাইড হাসল' তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। কলকাতা ও জয়পুরের আইইএম-ইউইএম ক্যাম্পাসগুলি সেই লক্ষ্যেই আগামীর দক্ষ প্রজন্ম তৈরি করছে। লন্ডনের এই সান্ধ্য আড্ডা আদতে প্রযুক্তি আর সাহসের এক মেলবন্ধনে পরিণত হল।
