হরমুজ খুলতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকাকে শর্ত দিয়েছিল ইরান। তবে রিপোর্ট বলছে, ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে এক রিপোর্ট সামনে এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত মেটাতে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ করবেন না ট্রাম্প। সূত্রের খবর, আমেরিকা চাইছে আলোচনার টেবিলে থাকবে পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়টিও।
লেবাননের একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান আমেরিকাকে জানিয়ে দিয়েছে পরমাণু আলোচনায় বসতে হলে তাদের দু’টি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, ইরান এবং লেবাননে সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধ থামাতে হবে। পাশাপাশি, নতুন করে যাতে সংঘাত সৃষ্টি না হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকা যে অবরোধ তৈরি করে রেখেছে, তা তুলতে হবে। যদি উপরোক্ত শর্ত দু’টি ওয়াশিংটন পূরণ করে, তাহলেই পরমাণু আলোচনায় বসবে ইরান।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পরমাণু সংক্রান্ত বিষয়টিই কেন্দ্রীয় বিষয়। ফলে এটিকে বৃহত্তর আলোচনা থেকে কোনওভাবেই আলাদা করা যাবে না।
রয়টর্স সূত্রের খবর, ইরানের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে নিজের অসন্তোষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন ট্রাম্প। বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পরমাণু সংক্রান্ত বিষয়টিই কেন্দ্রীয় বিষয়। ফলে এটিকে বৃহত্তর আলোচনা থেকে কোনওভাবেই আলাদা করা যাবে না। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, "চুক্তি যাই হোক না কেন সেখানে একটা বিষয় অবশ্যই থাকতে হবে তা হল ইরান কোনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। পরমাণু অস্ত্রের রাস্তায় হাঁটা বন্ধ করতে হবে ওদের।'' সবমিলিয়ে জট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হলেও মনে করা হচ্ছে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হতে চলেছে।
তবে কূটনৈতিক দরজা এখনও খোলা রেখেছে ইরান। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘাচি। সোমবার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। বৈঠক শেষে বলেন, রাশিয়া তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। মস্কো সফর শেষ করে তিনি ফের পাকিস্তানে গিয়েছেন বলে খবর।
