ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সটান 'মিথ্যেবাদী' বলে দিল তেহরান (Iran-US Conflict)। সেদেশের স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি ইরানের। আসলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের চাপে পড়ে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছেন ট্রাম্প, এমনটাই অভিযোগ ইরান সংসদের স্পিকারের।
সোমবার গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে ট্রাম্প আচমকা ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, 'মার্কিন সেনাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগামী পাঁচদিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি পরিকাঠামোয় সামরিক হামলা স্থগিত থাকবে।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তারপরেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তুলোধোনা করেছেন ইরানের স্পিকার। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, 'আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। তেলের বাজারকে ভুল বোঝাতে এসব ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। আসলে আমেরিকা এবং ইজরায়েল গভীর সংকটে পড়েছে। সেখান থেকে পালানোর চেষ্টায় এসব খবর ছড়াচ্ছে।' কালিবাফের কথায়, আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনার পথে হাঁটার কথা ভাবছেই না ইরান। কারণ হামলাকারী দেশগুলির কঠিন শাস্তি চান ইরানবাসী। এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের প্রত্যেক আধিকারিক সুপ্রিম লিডারের পাশে থাকবেন বলেই মত স্পিকারের।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে গোটা বিশ্বের উপর আরও চাপ বাড়িয়ে যাবে তেহরান। তার জেরে গোটা বিশ্বে তেল এবং গ্যাস সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। হরমুজ বন্ধ থাকার কারণে গোটা বিশ্বে দেখা দিয়েছে প্রবল জ্বালানি সংকট। হুহু করে বাড়ছে তেল এবং গ্যাসের দাম। এহেন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে, এমনটাই মনে করছে বিশ্লেষক মহল। কারণ আমেরিকাতেও বাড়ছে জ্বালানি সংকট। ভারত-সহ বহু দেশকে রুশ তেল কেনার 'অনুমতি' পর্যন্ত দিতে বাধ্য হয়েছেন ট্রাম্প। ফলে শান্তির বার্তা শুনিয়ে তেলের বাজারে সাময়িক স্বস্তি আনতে চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
