দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা ধরে বৈঠক। কিন্তু তারপরও কাটল না জট। ভেস্তে গেল ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনা। ভারতীয় সময় রবিবার ভোরে এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন উপ রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স। এরপরই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ফের শুরু হতে চলেছে যুদ্ধ?
প্রায় তিন রাউন্ড আলোচনা পর্বের পর ইসলামাবাদে সাংবাদিক বৈঠক করেন ভ্যান্স। সেখানে তিনি বলেন, “আমরা যে শর্তগুলি দিয়েছিলাম ইরান সেগুলিতে সম্মত হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের বলেছিলেন, সদিচ্ছা সহকারে আমাদের সমঝোতায় পৌঁছনোর চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কোনও অগ্রগতি হয়নি। আমরা ফিরে আসছি।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলি আগেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে ইরান যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, সেই আশ্বাস তারা দেয়নি।” আগামী দিনে ইরানের সঙ্গে ফের কোনও আলোচনা হবে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি মার্কিন উপ রাষ্ট্রপতি। অন্যদিকে, ইরানের তরফ থেকে জানানো হয়, দু’পক্ষের প্রতিনিধিরা নথিপত্র আদান প্রদান করবেন। আমেরিকার সঙ্গে কিছু বিষয়ে তাদের মতানৈক্য রয়েছে বলেও জানায় তেহরান। তবে আগামী দিনে ফের দু’পক্ষ আলোচনায় বসবে বলে দাবি করে ইরান।
প্রায় ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর ২ সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান-আমেরিকা। এই সময়সীমার মধ্যে সংঘর্ষবিরতি যাতে স্থায়ী হয়, সেই চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছিল দু'দেশ। শনিবার শান্তি বৈঠকে যোগ দিতে ইসলামাবাদে পৌঁছে যান ইরানের ৭০ জনের প্রতিনিধিদল। যার নেতৃত্বে ছিলেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। অন্যদিকে, শনিবার ভোরে ইসলামাবাদে অবতরণ করে মার্কিন বিমানও। আমেরিকার প্রতিনিধি দলে ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার। এরপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। কিন্তু ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকের পরও মিলল না সমাধান সূত্র।
এদিকে বৈঠক শুরুর আগে ট্রাম্প কার্যত হুমকি দিয়ে জানিয়েছিলেন, চুক্তি কিংবা না হোক আমেরিকা হরমুজ প্রণালী মুক্ত করেই ছাড়বে। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল ইরানে কি আরও বড় হামলার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? এখন শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর সেই প্রশ্নটিও আরও জোরাল হচ্ছে।
