ইসলামাবাদে ব্যর্থ হয়েছে ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে মুখ খুললেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
রবিবার একটি বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ অভিযানে ইরানের পারমাণবিক এবং ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ওরা আমাদের শ্বাসরোধ করতে এসেছিল, কিন্তু এখন ওদের শ্বাসরোধ হয়ে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ইরান আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল, এখন তারাই নিজেদের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করছে। আমাদের অভিযানে ইরানের নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে গিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, "অভিযান এখনও শেষ হয়নি। তবে আমরা ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছি।" পাশাপাশি, লোবানন নিয়েও এদিন মুখ খুলেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। বলেন, "লেবাননের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় আমি রাজি। কিন্তু তার জন্য দু'টি শর্ত রয়েছে। প্রথমত, আমরা সেখানকার বিক্ষুব্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লার অস্ত্র সমর্পণ চাই। দ্বিতীয়ত, আমরা এমন একটি শান্তি চুক্তি চাই, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থায়ী হবে।”
প্রায় ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর ২ সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান-আমেরিকা। এই সময়সীমার মধ্যে সংঘর্ষবিরতি যাতে স্থায়ী হয়, সেই চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছিল দু’দেশ। সেঅ লক্ষ্যে শনিবার শান্তি বৈঠকে যোগ দিতে ইসলামাবাদে পৌঁছে যান দু'দেশের প্রতিনিধিরা।কিন্তু ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকের পরও মিলল না কোনও সমাধান সূত্র। বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আনতে চাননি মার্কিন উপ রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স। তবে প্রধানত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দু’পক্ষের অসম্মতির কারণেই এই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইসলামাবাদে সাংবাদিক বৈঠকে ভ্যান্স বলেন, “ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলি আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু ভবিষ্যতে ইরান যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, সেই আশ্বাস তারা দেয়নি।”
