shono
Advertisement
Iran

ট্রাম্পের হুমকির জের! শান্তি বৈঠক ভঙ্গ করে করে বেরিয়ে গেল ইরান, হতবাক পাকিস্তান

সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে এই বৈঠক ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দাবি করেন, বৈঠকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। যদিও লেবানন ও হরমুজ প্রণালীর মতো বিষয়গুলিতে মতপার্থক্য রয়ে গিয়েছে।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 09:04 AM Jun 22, 2026Updated: 09:07 AM Jun 22, 2026

পাকিস্তান এবং কাতারের মধ্যস্থতায় রবিবার সুইজারল্যান্ডে শান্তি বৈঠকে বসেছিল আমেরিকা এবং ইরান। প্রথম দফার বৈঠক হয়ে গিয়েছে। তবে তা কতটা ইতিবাচক, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জেরে ৮০ মিনিট পরেই ইরানের প্রতিনিধিরা বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনায় হতবাক পাকিস্তানও।

Advertisement

পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ীভাবে শান্তি ফেরাতে কয়েকদিন আগেই একটি মউ স্বাক্ষর করেছে ইরান এবং আমেরিকা। কিন্তু সমঝোতাপত্রের ১৪ দফা শর্ত বাস্তবায়িত এবং পর্যালোচনা করতে রবিবার সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে এক রিসর্টে মুখোমুখি বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি। সূত্রের খবর, প্রথম ৮০ মিনিট সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয় আলোচনা। কিন্তু তারপর একটি বিরতি নেওয়া হয়। বিরতির পর ফের মুখোমুখি বসার কথা ছিল দু'পক্ষের। কিন্তু তার মাঝেই লেবানন প্রসঙ্গ তুলে তেহরানকে হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেন, "লেবাননে ইরান সমর্থিত হেজবুল্লা এবং অন্যান্য গোষ্ঠীগুলি যদি অশান্তি না থামায়, তাহলে ইরানের উপর আবারও হামলা হবে। আর আগের তুলনায় এই হামলা হবে আরও বড়, আরও জোরদার।" ট্রাম্পের এহেন আক্রমণের পরই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান ক্ষুব্ধ ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে জানা গিয়েছে, শান্তি বৈঠক সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়নি। সোমবারও ফের আলোচনায় বসবে দু'পক্ষ।

সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে এই বৈঠক ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দাবি করেন, বৈঠকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। যদিও লেবানন ও হরমুজ প্রণালীর মতো বিষয়গুলিতে মতপার্থক্য রয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের বার্তাও তিনি পৌঁছে দেন। বলেন,"কূটনীতির মাধ্যমে কথা এগোলে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে প্রস্তুত। অর্থবহ কূটনৈতিক চুক্তির জন্য আপস এবং নিরন্তর প্রচেষ্টা প্রয়োজন।"

উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকার শান্তির লক্ষ্যে ১৪টি শর্তের উপর মউ স্বাক্ষর হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরান, লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশে যুদ্ধ বন্ধ হবে। নতুন করে কোনও যুদ্ধ হবে না সেই গ্যারান্টি দেবে ইজরায়েল ও আমেরিকা। হরমুজ থেকে অবরোধ তুলবে আমেরিকা। ইরানও হরমুজ খুলে দেবে। সরবে ইরানের জাহাজের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা। ইরানের বাজেয়াপ্ত ২৪ মিলিয়ন ডলার ফেরানো হবে। ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে। ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে সেনা প্রত্যাহার। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement