ইরানের ভয়াবহ বিস্ফোরণ। অভিযোগ, আমেরিকার সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যেই রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে দিয়েছে ইজরায়েল। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভেও জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার সকালে ইরানে অন্তত তিন-চারটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এই হামলাকে তারা সতর্কতামূলক হামলা হিসাবে ব্যাখ্যা করেছে। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাট্জ বলেছেন, "ইরানের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক হামলা চালানো হয়েছে। ইজরায়েল নিজেকে সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ করেছে।" তেল আভিভের সাইরেনের শব্দ শোনা গিয়েছে। অনুমান, ইজরায়েলি হামলার পর ইরানও পালটা হামলা চালাতে পারে, এই আশঙ্কা করেই সাইরেন বাজিয়ে তেল আভিভের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে প্রশাসন।
গত কয়েক মাস ধরেই আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে টানাপড়েন তুঙ্গে। তেহরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই মতো পশ্চিম এশিয়ায় সেনা মোতায়েনও করেছে আমেরিকা। তার জেরে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয় পশ্চিম এশিয়া জুড়ে। এই আবহে শুক্রবারই মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের ইজরায়েল ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ঘটনাচক্রে, তার পরেই ইজরায়েলে হামলা চালাল বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ।
উত্তেজনা কমাতে সম্প্রতি কয়েক দফা বৈঠকেও বসেছিল আমেরিকা এবং ইরান। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি এখনও। এর মধ্যেই গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করার জন্য ইরানকে ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে মদত বন্ধ করার ডাকও দিয়েছিলেন তিনি। যদিও ইরানের দাবি, তারা শুধুই পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্পের প্রতিনিধিদল ইরানের সামনে দাবি রাখবে, তাদের তিনটি পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করে দিতে হবে। সঞ্চিত ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতে হবে। ইরান শুক্রবার জানিয়েছে, চুক্তি করতে হলে আমেরিকা ‘অতিরিক্ত দাবিদাওয়া’ করতে পারবে না। চলতি সপ্তাহেই পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে ফের এক দফা বৈঠকে বসার কথা রয়েছে আমেরিকার।
প্রসঙ্গত, গত বছর ইরান এবং ইজরায়েল সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে বলে দাবি করে 'আত্মরক্ষার্থে' হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। প্রায় ১২ দিন ধরে সেই সংঘাত চলে। ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে আমেরিকাও হামলা চালিয়েছিল।
