সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানে (Iran) হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর থেকেই এই সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সতর্কতা জারি ইজরায়েলেও (Israel)! বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি, ইহুদি সেনাকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তা থেকেই জল্পনা, আমেরিকার সঙ্গে ইজরায়েলও কি হামলা চালাবে ইরানে?
পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে ইরান-ইজরায়েল দ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। গত বছরই সংঘর্ষে জড়িয়েছিল দু'দেশ। তেহরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে, এমন দাবি করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল তেল আভিভ। প্রত্যাঘাত করেছিল ইরানও। প্রায় ১২ দিন ধরে চলেছিল সেই সংঘর্ষ। সেই সময় ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলে এসেছিল আমেরিকা। তখন থেকেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকারকে উৎখাতের দাবি জানিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু। ইরানে সম্প্রতি যে 'গণবিপ্লবের' পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আমেরিকাও খামেনেইয়ের সরকারকে উৎখাতের কথা বলেছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলও যে আমেরিকার পাশেই দাঁড়াবে, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি, তেহরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নজরে রেখে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথাও বলেছেন নেতানিয়াহু। সূত্রের দাবি, ইরানে মার্কিন-হানার সম্ভাবনা নিয়েই কথা হয়েছে দু'জনের। ঘটনাচক্রে, তার পরেই সতর্কতা জারি হয় ইজরায়েলে। যদিও এটি কী ধরনের সতর্কতা, তা স্পষ্ট নয়। আর ইজরায়েল যে আমেরিকার সঙ্গে যৌথ ভাবে ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে চায়, তার ইঙ্গিত সেই ভাবে মেলেনি এখনও। অনেকের মত, ইজরায়েল সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্ত না হলেও, ইরান তেল আভিভের 'ষড়যন্ত্র' সম্পর্কে অবগত। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা যদি শেষমেশ ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে ইরানও প্রত্যাঘাত করবে এবং তার আঁচ পড়বে তেল আভিভেও। হয়তো সেই প্রত্যাঘাতের আশঙ্কা করেই সেনাকে সতর্ক করেছেন নেতানিয়াহু, যাতে ইরানের হামলায় ইজরায়েলের কোনও ক্ষতি না হয়। তা যেন সীমান্তেই প্রতিহত করা যায়।
প্রসঙ্গত, ইরানে খামেনেইয়ের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আঁচ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই আন্দোলন-বিক্ষোভ কড়া হাতেই দমন করছে তেহরান। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু বিক্ষোভকারীর মৃত্যুও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ইরান সরকার হামলা চালালে ওয়াশিংটন চুপ করে থাকবে না। প্রয়োজনে সামরিক অভিযান চালাবে। ট্রাম্পকেও পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খামেনেই।
