ইরানের রাজধানী তেহরানের অদূরে একটি গোপন পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংঘাতের আবহে এমনই দাবি করল ইজরায়েল। ইজরায়েলি সেনার মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফ্রিন দাবি, ওই গোপন পরমাণু কেন্দ্রের নাম 'মিনজাদেহেই'। মাটির গভীরে থাকা এই পরমাণু কেন্দ্রটিকেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের সংঘাতের সময় ইরানের একাধিক পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। নাতানজ এবং ইসফাহান-সহ তিনটি কেন্দ্রে বাঙ্কার বাস্টার বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকাও। ইজরায়েলের দাবি, সেই হামলার পরেই পরমাণু প্রকল্পের সরঞ্জাম সরানোর কাজ শুরু করেছিল ইরান। তখন থেকেই তেহরানের অদূরে 'মিনজাদেহেই' কেন্দ্রে আংশিক কার্যকলাপ শুরু হয়। ইজরায়েলি গোয়েন্দারাই সেই খবর পান। তাঁরা জানতে পারেন, ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীরা 'মিনজাদেহেই' কেন্দ্রে যাতায়াত শুরু করেছেন। সেই কারণেই সেখানে হামলা চালানো হয়।
যদিও মিনজাদেহেই কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ চলছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইজরায়েলের দাবি, সেখানে মূলত পারমাণবিক গবেষণার কাজই চলত। যদিও এ ব্যাপারে ইরান সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি। সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যেই আবার ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালানো হচ্ছে বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছে ইজরায়েল। যদিও রাষ্ট্রসংঘের পরমাণু নজরদার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) জানিয়েছে, আপাতত ইরানের কোনও পরমাণু কেন্দ্র থেকে তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের প্রমাণ মেলেনি।
পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে মার্কিন এবং ইজরায়েলি হামলা নিয়ে ইরানকে সতর্ক করেছে রাশিয়াও। তেহরানকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, বুশেহরের পরমাণু কেন্দ্রে বারবার হামলা চালানোর চেষ্টা করছে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সেনা। পরমাণু কেন্দ্রের আশপাশে মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণ করে চলেছে তারা।
