ইরান-আমেরিকার শান্তি আলোচনা যখন ব্যর্থ হয়েছে, তখন লেবাননে ভয়ংকর ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইজরায়েল (Israel-Lebanon)। লাগাতার বোমাবর্ষণের জেরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে একের পর এক গ্রাম। সূত্রের খবর, ধ্বংসাত্মক এই হামলা চালাতে ইজরায়েল ব্যবহার করেছিল ফসফরাস বোমা। হামলার সময়ের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী তিনটি গ্রাম তাইবেহ, নাকুরা এবং দেইর সেরিয়ানে ভয়াবহ হামলা চালায় ইজরায়েলি সেনা। সূত্রের খবর, প্রথমে বেশ কয়েকঘণ্টা সেখানে লাগাতার গোলাবর্ষণ করা হয়। এরপর রিমোট চালিত বোমা দ্বারা গোটা গ্রামগুলি ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি, ব্যবহৃিত হয়েছিল ফসফরাস বোমা। কিন্তু কীভাবে রিমোট চালিত বোমা সেখানে পৌঁছল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ানে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার রাফা, বেইত হানুনে যে পদ্ধতির মাধ্যমে ইজরায়েলি সেনা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলে, তারই প্রতিচ্ছবি যেন লেবানন। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ সম্প্রতি লেবাননে বড়সড় অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। তারপরই এই ঘটনা ঘটল। উল্লেখ্য, গাজায় যে কৌশলে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ইজরায়েল তা ‘ডোমিসাইড’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর অর্থ গোটা এলাকাকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজার সেই ষড়যন্ত্র এবার লেবাননেও বাস্তবায়িত করতে চলেছে ইজরায়েল।
অন্যদিকে, লেবাননের সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইরান-সমর্থিত বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী হেজবুল্লার রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননে হামলা এবং স্থল অভিযান চালিয়েছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সে দেশের দক্ষিণে তেল আভিভের হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন। এর ফলে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে ইজরায়েলের দাবি, তারা শুধু মাত্র হেজবুল্লার কোমড় ভাঙতেই এই অভিযান চালাচ্ছে। কোনও নিরীহ নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না। একইসঙ্গে তেল আভিভ আরও দাবি করেছে, হেজবুল্লা ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষজনের বাড়ির ভিতর নিজেদের গোপন সুড়ঙ্গ, সামরিক পরিকাঠামো স্থাপন করেছে।
