সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিলেতের মাটিতেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ বানচাল করতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি। গত ২৭ মার্চ লন্ডনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন সেই অশান্তি লজ্জার নজির রেখেছিল। আটদিনের সফল সফর শেষে শনিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় ফিরে এলেও সেই ঘটনার কথা ভোলেনি কেউ। সেদিনের বিক্ষোভের দায় স্বীকার করেছিল এসএফআই, ইউকে শাখা। তবে রবিবার আরও এক বিক্ষোভকারীর পরিচয় প্রকাশ্যে এল। জানা গেল, শুধু এসএফআই নয়, সেদিনের বিক্ষোভে শামিল ছিলেন বিজেপি সমর্থকও। তাঁর নাম সুশীল ডোকওয়াল এক্কা।

চলতি সপ্তাহে গোড়ায় লন্ডন সফর চলাকালীন সেন্ট জেমস কোর্টের কাছে যে হোটেলে ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সফরসঙ্গীরা, তার ঠিক সামনেই দেখা গিয়েছিল সুশীলকে। কেলগ কলেজে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ শুরুর আগে তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় ছিলেন সুশীল। তোলেন সেলফিও।
কেলগ কলেজে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের আগে তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় সুশীল। ছবি: ফেসবুক।
ব্রেন্টের ওয়েম্বলিতে বসবাসকারী সুশীল ব্রিটেনের এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সংস্থার উচ্চপদে কর্মরত। উজ্জ্বল কেরিয়ারের সুশীল মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বরাবর গেরুয়া শিবির ঘেঁষা। তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকেই তা স্পষ্ট। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে যে অভয়া কাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদ হবে, তার প্রস্তুতিও ছিল সুশীল ডোকওয়াল এক্কাদের। সোশাল মিডিয়ায় তিনি নিজেই ওই পোস্ট করেছেন।
অভয়া কাণ্ডের প্রতিবাদে সুশীল। ছবি: ফেসবুক।
গত ২৭ মার্চ অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে 'দ্য হাব' প্রেক্ষাগৃহে নারী ক্ষমতায়ন শীর্ষক মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে আচমকাই কূট কিছু প্রশ্ন তুলে শোরগোল ফেলে দেয় জনা কয়েক তরুণ-তরুণী। সিঙ্গুর থেকে টাটাদের চলে যাওয়া, অভয়ার বিচার-সহ একাধিক অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, হাতে ছিল পোস্টার। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে এমন ছন্দপতন মোটেই মেনে নেননি প্রেক্ষাগৃহে সমবেত জনতা। বিক্ষোভকারীদের কার্যত ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, তাঁরা কেউ অক্সফোর্ডের পড়ুয়া নয়। সকলে এসএফআই, ইউকে-র সদস্য। নাম ভাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় ঢুকেছিলেন। সেই দায় নিয়েছে সংগঠন।
আরও পরে জানা গেল, ওই বিক্ষোভকারীদের মধ্যে মিশে ছিলেন সুশীল ডোকওয়াল এক্কাও, যিনি কট্টর বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিত। ফলে বিলেতের মাটিতেও মমতা বিরোধিতায় রাম-বাম যৌথ ষড়যন্ত্রের একেবারে হাতেগরম প্রমাণ মিলল।