আমরা পরিবর্তন নয়। ভাঙনের যুগে বাস করছি। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Trump-Greenland) কড়া বার্তা দিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্কন কারনি। একইসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের বিরুদ্ধাচারণ করায় ইউরোপের যে আটটি দেশের উপর শুল্কবাণ নিক্ষেপ করেছেন ট্রাম্প, তারও বিরোধিতা করেছেন কারনি।
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিয়ে কারনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আমেরিকা যে শুল্কবাণ নিক্ষেপ করেছে, তার তীব্র বিরোধিতা করছি। আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য আলোচনায় বসা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড এবং সেখানকার মানুষদের সঙ্গে রয়েছে অটোয়া।” এরপরই বিশ্বে আমেরিকার ‘দাদাগিরি’ নিয়ে সরব হয়েছে তিনি। কারনির কথায়, “এক সময় যে অর্থনৈতিক সংযোগকে যৌথ সমৃদ্ধির পথ হিসাবে দেখা হয়েছিল, এখন সেই ব্যবস্থাকেই বড় শক্তিধর দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।” তাঁর মতে, বিশ্বায়নের মাধ্যমে দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে এখন শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলির উপর বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এই দ্বীপ। তবে ট্রাম্পের সেই ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ। বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটিকে সমর্থনের জন্য ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডের পণ্যের উপর শুল্কবাণ নিক্ষেপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ট্রাম্পের সেই 'রক্তচক্ষু'কে উড়িয়ে গ্রিনল্যান্ডের পাশে থাকারই বার্তা দিয়েছে ইউরোপের দেশগুলি।
