নিজের নোবেল পুরস্কার কোনওভাবেই অন্য কারোর হাতে তুলে দিতে পারেন না মারিয়া করিনা মাচাদো। স্পষ্ট জানিয়ে দিল নোবেল কমিটি। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে গিয়ে নিজের নোবেল পুরস্কারটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন মাচাদো। সেই নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে চলছে তুমুল জল্পনা। এহেন পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের শান্তির নোবেলজয়ীকে তীব্র তিরস্কার করল নোবেল কমিটি।
রবিবার একটি বিবৃতি পেশ করা হয়েছে নোবেল কমিটির তরফ থেকে। সেখানে বলা হয়, 'নোবেল পুরস্কার প্রতীকীভাবেও অন্য কারোর হাতে তুলে দেওয়া যায় না। অ্যালফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা এবং শর্তাবলিকে মর্যাদা দেওয়া এই কমিটির কর্তব্য। সেই শর্তে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মানবজাতির স্বার্থে যাঁরা অসামান্য অবদান রেখেছেন, কেবল তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হবে। নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ক্ষমতাও স্পষ্টভাবে শর্তাবলিতে লেখা রয়েছে। নোবেল পুরস্কার দেওয়ার যোগ্যতা কাদের রয়েছে, সেটাও শর্তাবলির অঙ্গ।'
নোবেল কমিটির এই কড়া বার্তা থেকেই পরিষ্কার, মাচাদোর কাজে তারা যথেষ্ট অসন্তুষ্ট। যেভাবে নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী, সেটা একেবারেই বেআইনি বলেই মত কমিটির। যদিও শুক্রবার নোবেল কমিটি জানিয়েছিল, পদক, ডিপ্লোমা, অথবা পুরস্কারের অর্থ যাই হোক না কেন, ইতিহাসে মূল বিজয়ীর নামই পুরস্কারের প্রাপক হিসাবে লিপিবদ্ধ থাকবে। তিনি তাঁর পদক এবং ডিপ্লোমা কী করবেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু দু'দিনের মধ্যেই নোবেল কমিটি বেশ কড়া অবস্থান নিল।
উল্লেখ্য, নোবেল পেয়েই মাচাদো ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। বলেছিলেন, নোবেল পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার ট্রাম্প। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিজের নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নিতে চান বলে জানিয়েছিলেন। তারপর গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন মাচাদো। নিজের নোবেল পুরস্কার তুলে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে। পুরস্কার হাতে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “যে কাজটা আমি করেছিলাম সেটার পুরস্কার পেয়েছিল মারিয়া। তাই আমার হাতে পুরস্কার তুলে দিল।” পুরস্কার হাতবদলের ঘটনায় এবার স্পষ্ট ক্ষোভ উগরে দিল নোবেল কমিটি।
