shono
Advertisement
Pakistan

ইরান যুদ্ধের মাঝেই শিয়া-সুন্নির আগুনে দগ্ধ পাকিস্তান! উলেমাদের দ্বারস্থ উদ্বিগ্ন মুনির

ইরান যুদ্ধের জেরে ঘর পুড়ছে পাকিস্তানের। আমেরিকার পদতলে ঝুঁকে পড়া শাহবাজ-মুনিরদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে পাকিস্তানের শিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 08:01 PM Mar 21, 2026Updated: 08:58 PM Mar 21, 2026

ইরান যুদ্ধের জেরে ঘর পুড়ছে পাকিস্তানের। আমেরিকার পদতলে ঝুঁকে পড়া শাহবাজ-মুনিরদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে পাকিস্তানের শিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে। সেই আগুনে ঘি পড়েছে শিয়া সম্প্রদায়কে অপমান করে আসিম মুনিরের এক বক্তব্য। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে পিঠ বাঁচাতে উলেমাদের দ্বারস্থ হলেন পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক আসিফ মুনির।

Advertisement

মার্কিন হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই ব্যাপক হিংসার আগুনে পুড়ছে পাকিস্তান। সেখানে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা চালায় শিয়া গোষ্ঠীরা। অন্যদিকে সুন্নি সম্প্রদায় আবার গোটা ঘটনায় নীরব সমর্থন জুগিয়েছে আমেরিকাকে। এই পরিস্থিতির মাঝেই সম্প্রতি শিয়া ধর্মগুরুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন মুনির। রাওয়ালপিন্ডিতে আয়োজিত শিয়া সম্প্রদায়ের সেই ইফতারে অংশ নিয়ে মুনির বলেন, "শিয়ারা যদি ইরানকে এত ভালোবাসেন তবে তাঁদের ইরান চলে যাওয়া উচিত।" পাশাপাশি জিন্নার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, "জিন্না নিজে একজন শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।" অন্য দেশের ঘটনাকে হাতিয়ার করে পাকিস্তানে কোনও হিংসা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন। মুনিরের এই বক্তব্য 'শিয়াদের অপমান' বলে দাবি করে এই সম্প্রদায়। এমনকী ওই অনুষ্ঠানে শিয়া উলেমাদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

মুনির বলেন, "শিয়ারা যদি ইরানকে এত ভালোবাসেন তবে তাঁদের ইরান চলে যাওয়া উচিত।" পাশাপাশি জিন্নার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, "জিন্না নিজে একজন শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।"

পরিস্থিতি গুরুতর আকার নিতেই শিয়াদের মান ভাঙাতে এই সম্প্রদায়ের উলেমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাক সেনা সর্বাধিনায়ক। সূত্রের খবর, এই সাক্ষাতের মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় ঐক্যকে মাথায় রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। ইরান যুদ্ধে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়। আগুনে জল ঢালার চেষ্টা করে মুনির বলেন, "আমরা প্রথমে মুসলিম ও পাকিস্তানি। তারপর শিয়া ও সুন্নি। আমাদের সাম্প্রদায়িক পরিচয় যেন কোনওভাবেই জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে না যায়।" মুনির আরও জানান, "দেশে সুন্নিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও মোট জনসংখ্যার ২০-২৫ শতাংশ শিয়া। আমি শিয়া সম্প্রদায়ের অনুভূতি বুঝতে পারছি। তবে বিদেশের ঘটনা যেন পাকিস্তানে অস্থিরতা তৈরি না করে।"

উল্লেখ্য, শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানে মার্কিন হামলা ও খামেনেই হত্যার ঘটনায় জ্বলছে পাকিস্তান। দফায় সফায় আমেরিকার দূতাবাসগুলির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে শিয়া গোষ্ঠীরা। অভিযোগ সেই বিক্ষোভ থামাতে আমেরিকার সঙ্গে মিলে মুনিরের সেনা গুলি করে হত্যা করেছে বিক্ষোভকারীদের। গোটা ঘটনায় ক্ষিপ্ত পাকিস্তানের শিয়া গোষ্ঠী। এর উপর মুনিরের বিতর্কিত মন্তব্য গোটা পাকিস্তানকে আড়াআড়ি ভাগ করে দিয়েছে। এই অবস্থায় ক্ষতে মলম দিতে শিয়া উলেমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়কের।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement