সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চলছিল অস্ত্রোপচার। আচমকাই কাজ অসম্পূর্ণ রেখে নাকি নার্সের সঙ্গে পাশের ঘরে ছুটে যেতে দেখা গেল চিকিৎসককে। এরপরই পাশের অপারেশন থিয়েটারে যৌনতায় লিপ্ত হলেন তিনি! ব্রিটেনে এমনই অভিযোগ উঠেছে এক পাকিস্তানি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। তবে ঘটনা এখনকার। এই অভিযোগ ২০২৩ সালের। অবশেষে কাঠগড়ায় তোলা হল তাঁকে। ওই চিকিৎসক জানালেন, তিনি লজ্জিত। ভবিষ্যতে এমন কিছু তিনি করবেন না।
ঠিক কী অভিযোগ? পাকিস্তানি ওই চিকিৎসকের নাম সুহেল আঞ্জুম। দাবি, ২০২৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি এক নার্সের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হন। তখনই সেখানে ঢুকে পড়েন এক নার্স। দেখতে পান দু'জনে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন। তাঁকে দেখতে পেতেই নাকি ওই চিকিৎসক পাজামার দড়ি বাঁধছেন। অন্যদিকে শুয়ে থাকা নার্সের পাজামা হাঁটু পর্যন্ত নামানো। তাঁর অন্তর্বাসটিও দৃশ্যমান। এই ঘটনায় সাড়া পড়ে গিয়েছিল ব্রিটেনে।
২০০৪ সালে লাহোরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাক্তারি ডিগ্রি করার পর ২০১১ সালে ব্রিটেনে প্র্যাকটিস শুরু করেন। কিন্তু বিতর্ক শুরু হতেই ২০২৪ সালে দেশ ছাড়েন তিনি। অবশেষে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে নিজের অপরাধ কবুল করেন আঞ্জুম। জানান, তিনি ওই কাজের জন্য অনুতপ্ত। তাঁকে ফের ব্রিটেনে কাজের সুযোগ দেওয়া হলে এমন কোনও কিছু তিনি করবেন না। তবে সেই সঙ্গেই জানিয়েছেন, সেদিনের ঘটনার অপরাধবোধ তাঁকে আজও কুড়ে কুড়ে খায়।
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন পাঁচটি অস্ত্রোপচার করার কথা ছিল আঞ্জুমের। তৃতীয় অস্ত্রোপচার ছিল গলব্লাডারের স্টোন সরানোর। কিন্তু অস্ত্রোপচার চলাকালীন অ্যানাস্থেসিস্ট আঞ্জুন ইশারা করেন এক নার্সকে। তারপরই তাঁদের অন্য এক ঘরে যৌনতা করতে দেখা যায় বলেই অভিযোগ। ঘটনার কথা স্বীকারও করে নিয়েছে পাকিস্তানি ওই ডাক্তার।
তিনি জানিয়েছে, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয়। ওই সময় তাঁদের একটি 'প্রিম্যাচিওর্ড' শিশু হওয়ায় স্ত্রী বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সেই সময় অর্থের প্রয়োজনও ছিল বেশি। তাই ছুটির দিনে একের পর এক অস্ত্রোপচারের ফাঁকে ক্লান্ত হয়ে পড়াতেই নার্সটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন আঞ্জুম। অন্তত তাঁর দাবি তেমনই।
