দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুতে (Ayatollah Ali Khamenei) শোকপ্রকাশ করেছে ভারত। তারপরেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। উল্লেখ্য, ৬দিন ধরে চলা যুদ্ধ নিয়ে ভারত এবং ফ্রান্সের অবস্থান প্রায় একইরকম। সামরিক অভিযান থামিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বার্তা দিয়েছে দুই দেশই।
গত শনিবার থেকে ইরানের উপর হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। রবিবার ভোরে মৃত্যু হয় খামেনেইয়ের। তারপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আট রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মোদি। কিন্তু বুধবার থেকে পরিস্থিতি বদলেছে। ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে আমেরিকা। সেই যুদ্ধজাহাজ ভারতের সঙ্গে মহড়া করতে অতিথি হয়ে এসেছিল। ভারতের 'অতিথি'র উপর এহেন হামলা নয়াদিল্লির অস্বস্তি বাড়ে। তারপরেই বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। শোকপ্রকাশ করেন খামেনেইয়ের মৃত্যুতে। কিন্তু মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার নিন্দা করেনি নয়াদিল্লি।
শোকজ্ঞাপনের কয়েকঘণ্টা পরেই ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বললেন মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা হল। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা দু'জনেই উদ্বিগ্ন। সেই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে ওই এলাকার সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা উচিত। মধ্যপ্রাচ্যে যেন দ্রুত শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফেরে আমরা সেই লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করব।' উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত এবং ফ্রান্স কোনও পক্ষকেই সমর্থন করেনি। নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে যুদ্ধ থামানোর আর্জি জানিয়েছে দুই দেশই।
অন্যদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এদিন ফোনে কথা বলেছেন এস জয়শংকরও। এক্স হ্যান্ডেলে সেই খবর শেয়ার করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। দু'জনের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা অবশ্য বিস্তারিত জানা যায়নি। উল্লেখ্য, ভারত মহাসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের ঘটনায় এদিনই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন আরাঘচি। সেই ক্ষত মেরামত করতেই কি জয়শংকরের ফোনালাপ?
