কুণাল ঘোষ, মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী: জ্যোতি বসু থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিদেশে বাংলার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে মুখ্যমন্ত্রীদের নাম যেমন বদলে যাচ্ছে, তেমনই বদলে যাচ্ছে আমলাদের মুখ, আরও গভীরে দেখলে শিল্পপতিদের প্রতিনিধিদলের মুখ। ক্রমশ উঠে আসছে একটা নতুন প্রজন্ম। যাদের এতকাল শিল্পমহলের কর্ণধার হিসাবে দেখে এসেছি, এখন ক্রমশ তাঁরা তৈরি করছেন নতুন প্রজন্মকে।
মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে আমি সিঙ্গাপুর, জাকার্তা সফরে গিয়েছি। তার পর শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনের সঙ্গে গিয়েছি চিন সফরে। সেসময় প্রবল প্রতাপশালী শিল্পসচিব ছিলেন সব্যসাচী সেন। তিনিই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। এখন স্পেন, দুবাইতে এসেছেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, শিল্পসচিব বন্দনা যাদব। তবে তফাত, মূল নিয়ন্ত্রক মুখ্যমন্ত্রীই।
শিল্পমহলের তালিকা দেখুন। জ্যোতিবাবু, বুদ্ধবাবুর সময় থেকেই তারকা নাম সুরেশ নেওটিয়া, হর্ষ নেওটিয়া, জি পি চৌধুরি, উমেশ চৌধুরি, সঞ্জীব গোয়েঙ্কারা। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরে দেখছি আরেক প্রজন্মান্তর। সঞ্জীব কাজে থাকায় যেতে পারেননি স্পেনে, দুবাই সম্মেলনে তাঁর আসার কথা। স্পেন মাতিয়ে দিল তাঁর ছেলে শাশ্বত গোয়েঙ্কা। ঝকঝকে তরুণ। কী দারুণ ভাষণ! আবার টিটাগড় ওয়াগনসের উমেশ চৌধুরিকে স্পেন সেরে ফিরে যেতে হল। বললেন, “দুবাইতে আমার ছেলে প্রীতীশ থাকবে। কীভাবে কী করবে, ও হোমওয়ার্ক করতে শুরু করে দিয়েছে। প্রবল উৎসাহ।”
[আরও পড়ুন: ‘দুয়ারে শিল্প’, দুবাইয়ে শিল্প সম্মেলনের আগে বাংলার জন্য নয়া পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রীর]
টেকনোর সত্যম রায়চৌধুরি বলছেন, আগামী বছরেই বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে অভিষেক ঘটাবেন পুত্র ঋষির। ঠিক যেমন রাইস কর্ণধার শমিত রায় পুত্রদ্বয় শঙ্খ ও শুভ্রকে দায়িত্বের পরিমণ্ডলে টেনে আনছেন। একই কাজ করছেন হর্ষ নেওটিয়া। সেনকো জুয়েলার্সের প্রয়াত কর্ণধার শংকর সেনের পুত্র শুভংকর এই সফরে সক্রিয়। ২০০৫-এর চিন সফরে ছিলেন মনোজ মোহাংকা। তাঁর ভাইপো মেহুল এবার সফরে বড়সড় দায়িত্বে। নতুনরা কেউ আড়ষ্টতার ভঙ্গি কেটে বেরচ্ছেন। কেউ যথেষ্ট সাবলীল ইতিমধ্যেই। শাশ্বত গোয়েঙ্কার মাদ্রিদ ভাষণ নিয়ে তো বেশ আলোচনা চলছে।
এসব দেখে স্বয়ং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও মাদ্রিদের শিল্পসম্মেলনে বলেছেন, “এবার এখানে দেখছি অনেক নতুন প্রজন্মের নতুন মুখ। তাদের হাত ধরেই বাংলার ব্যবসা এগিয়ে চলেছে। এটা নিশ্চিন্ত থাকার মতো বার্তা।”
আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই নতুনদের দারুণভাবে উৎসাহিত করছেন। ডেকে কথা বলছেন। খবর নিচ্ছেন। ফলে বর্ষীয়ানরাও আত্মীয়তা অনুভব করছেন। নতুন প্রজন্মও দারুণ খুশি। সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট, অন্য সব ক্ষেত্রের মতো শিল্প-বাণিজ্যেও বাংলায় ক্রমশ উঠে আসছে নতুন প্রজন্মের একঝাঁক মুখ।
