ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতে এবার জড়াতে পারে সৌদি আরবও। সে দেশের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও আমেরিকা বা ইজরায়েলের মতো তথাকথিত যুদ্ধঘোষণা তারা করবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। সৌদি প্রশাসন শুধু জানিয়েছে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা করণীয়, তা-ই করা হবে। অন্য দিক, বুধবার কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইরানের ১০ জন নাগরিক। কাতার প্রশাসনের দাবি, তারা ইরানি সেনার গুপ্তচর।
মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার প্রত্যাঘাতে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে। এই সমস্ত দেশেই আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সেই যুক্তিতে সৌদিতেও ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। সেই আবহেই সোমবার সৌদি আরবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার 'আরামকো' ও কাতারের রাস লাফান এলএনজি কেন্দ্রে আগুন লাগে। দাবি, ইরানই হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার পরেই 'আরামকো' শোধনাগারের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার রিয়াধের মার্কিন দূতাবাসেও হামলা চালানো হয়। সৌদির পূর্বাঞ্চল জুড়ে রয়েছে তেলের খনি। বুধবার সেই খনির কাছেই আছড়ে পড়তে যাচ্ছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। যদিও মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই সেই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল সৌদি সেনা।
সৌদির উপর একের পর এক ইরানি হামলায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি পাকিস্তানও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে? এই জল্পনার কারণ, গত বছরই সৌদির সঙ্গে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ইসলামবাদা। যার নির্যাস হল, এই দুই দেশের কোনও একটির সার্বভৌমত্বে আঘাত হানা হলে তা অন্য দেশটির উপর হামলা বলেই বিবেচিত হবে। এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। তিনি বলেন, " আমাদের সঙ্গে সৌদির সামরিক চুক্তির কথা ইরানকে মনে করিয়েছি। ইরান আমাদের জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যেন সৌদির মাটি ব্যবহার না করা হয়।"
