মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ ভারত মহাসাগরেও! শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছে বিপদে পড়ল একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ। প্রথামিক ভাবে জানা গিয়েছে, শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের জাহাজটিকে ধাক্কা মারে একটি ডুবোজাহাজ (সাবমেরিন)। এই ঘটনায় অন্তত ১০১ জন নিখোঁজ। আহত হয়েছেন ৭৮ জন। এখনও পর্যন্ত ৩০ জন ইরানি নাগরিককে উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কার নৌসেনা। প্রশ্ন উঠছে, ইরান যুদ্ধের আবহে ভারত মহাসাগরে কী করছিল ইরানি যুদ্ধজাহাজটি?
বুধবার শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষামন্ত্রকের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের নৌবাহিনীর ‘আইআরআইএস ডেনা’ নামের জাহাজটিতে ১৮০ জন ছিলেন। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ দিকের বন্দর শহর গল থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল সেটি। ডুবন্ত জাহাজটি থেকে ভোর ৫টা ৮ মিনিটে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠানো হয় শ্রীলঙ্কার সেনাকে। দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে নৌসেনা। ৩০ জন ইরানি নাগরিককে উদ্ধার করা গিয়েছে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রীও। যদিও যুদ্ধের বাজারে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ঠিক কী করছিল তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন সেনা দাবি করে, জলযুদ্ধেও তেহরানকে কাবু করছে তারা। এখনও পর্যন্ত ডুবোজাহাজ-সহ ১৭টি ইরানি জাহাজকে ডুবিয়ে দিয়েছে তারা। মনে করা হচ্ছে, এদিনও সেই কারণেই হামলার মুখে পড়ে ইরানি যুদ্ধজাহাজটি।
প্রসঙ্গত, পঞ্চম দিনেও ধুন্ধুমার যুদ্ধের সাক্ষী গোটা মধ্যপ্রাচ্য। নতুন করে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। যদিও বিপদ ঘটানোর আগেই ড্রোনটিকে গুলি করে নামানো হয়েছে। কেউ হতাহত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। ইরাকের পাশাপাশি প্রতিবেশী কুয়েত, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী, বাহরিন, ওমান, জর্ডনে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ক্রমশ বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকেও শত্রুতে পরিণত করছে তেহরান। ইতিমধ্যে সৌদি আরব পালটা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল ও আমেরিকাও। দেশটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত দপ্তর এবং একটি মিশাইল লঞ্চার গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইজরায়েল। যুদ্ধে শুধু ইরানেই এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক হাজারের বেশি মানুষের। তথ্য বলছে, গত পাঁচদিন ইরান ৫০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ২০০০ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানে ২০০০-এর বেশি টার্গেটে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল।
