মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মধ্যে শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইরিশ দেনায় হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ (সাবমেরিন)। ওই ঘটনায় শতাধিক ইরানি সৈনিক ও নাবিকের মৃত্যু হয়। কোনওভাবে বেঁচে যান 'অভিশপ্ত জাহাজে'র এক নাবিক হামেদ মোমেনেহ। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে জাহাজে থাকা সৈনিক এবং নাবিকদের ডুবিয়ে মারতে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। এমনকী হামলার আগে নিয়ম মতো কোনও সতর্কবার্তা পাঠানো হয়নি।
হামেদ বলেছেন, "আন্তর্জাতিক আইনকে লঙ্ঘন করে মধ্যরাত ডিঙিয়ে ৩টে-সাড়ে তিনটে নাগাদ হামলা চালানো হয়েছিল। আমরা যুদ্ধক্ষেত্রেও ছিলাম না এবং কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি আমাদের। যখন প্রথম টর্পেডো আঘাত করে, তখন সকলে কর্তব্যরত অবস্থায় সজাগ ছিলাম। জাহাজে ১০৪ জন নাবিক ছিলেন। ভাগ্যক্রমে প্রথম ধাক্কায় কেউ নিহত হয়নি।" যোগ করেন, "কেবল জাহাজটির ক্ষতি করার ইচ্ছে থাকলে অন্য অংশে হামলা হত। কিন্তু ওরা নাবিকদের হত্যা করতেই চেয়েছিল। এর পরেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জাহাজ ছাড়িনি আমরা। আইরিশ দেনা আমাদের কাছে ইরানের মাটির সমান ছিল।"
প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ‘আইরিস দেনা’-র উপর হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজটি। ডুবন্ত অবস্থাতেই নাবিকেরা বার্তা পাঠান। সেই মতো শ্রীলঙ্কার নৌসেনা উদ্ধারে যায়। এই ঘটনায় জাহাজে থাকা শতাধিক নাবিকের মৃত্যু হয়। ভারতের নৌসেনার সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিতেই বঙ্গোপসগারে এসেছিল জাহাজটি। পরে সেটির গন্তব্য হয় বিশাখাপত্তনম। এরপর ইরানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। তখনই ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিন হামলা চালায় ইরানের যুদ্ধজাহাজটির উপরে।
