সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির সামনে মাথা নত করেন ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে সুর বদলে আমেরিকার কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান মাদুরোর ডেপুটি। এরপরেই মনে করা হয়েছিল ভেনেজুয়েলার উপর মার্কিন আক্রমণে আপাতত বিরতি পড়ল। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফের অশান্ত কারাকাস।
জানা গিয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের মিরাফ্লোরেস এলাকায় প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের কাছে গুলি চালানো এবং তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের উপরে ড্রোনও দেখা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকা আটক করার পরেই দক্ষিণ আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ তেল ভাণ্ডার ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এই সংঘর্ষের সঙ্গে আমেরিকার কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সংবাদ মাধ্যমের দাবি, মিরাফ্লোরেস প্রাসাদের কাছে নিরাপত্তা গোষ্ঠীগুলির মধ্যে 'ভুল বোঝাবুঝির' কারণে এই গুলি চালানোর ঘটনা হতে পারে। যদিও, সরকারি ভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। সোমবার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ। এর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই এই সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় মিরাফ্লোরেস প্রাসাদের উপরে ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছে। এরপরেই গুলি চালানো শুরু করে নিরাপত্তারক্ষীরা।
মার্কিন হামলা ও মাদুরোর গ্রেপ্তারির পর ভেনেজুয়েলার তরফে জানানো হয়েছিল, আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা কোনওভাবেই নেবে না ভেনেজুয়েলা। ডেলসি জানান, "আমরা কখনও কারও দাসত্ব করব না। কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ আর আমরা হব না। আমরা ভেনেজুয়েলাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।" শুধু তাই নয়, মাদুরোর গ্রেপ্তারির তীব্র নিন্দা করে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার বার্তা দেন ডেলসি। এই ঘটনায় পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানান, "যদি রড্রিগেস মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনওরকম পদক্ষেপ করেন, তা হলে তাঁকে মাদুরোর থেকেও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।" এমনকি, ভেনেজুয়েলায় মাটিতে দ্বিতীয় বার সামরিক আক্রমণেরও হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
হুমকি এবং পালটা হুমকির মাঝে, এই নতুন করে তৈরি হওয়া সংঘর্ষের পিছনে মার্কিন মদত নেই এমনটা পুরপুরি মেনে নিতে পারছে না রাজনৈতিক মহল। শুরু থেকেই কারাকাসে সরকার বদলের কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু, শুধু মাদুরোর গ্রেপ্তারিতে সেই সরকার বদল সম্ভব হয়নি। তাই, ছোট ছোট সংঘর্ষের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে না আমেরিকা এমনটা এখনই মেনে নিতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা।
