ইরানে হরমুজ প্রণালীর কাছে রাতভর বোমাবর্ষণ করল আমেরিকা। এক মার্কিন কর্তাকে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। সূত্রের খবর, এর জবাবে পালটা কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আদৌ কি দু’দেশের মধ্যে থামবে যুদ্ধ?
ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার রাত ১টা ৩০মিনিটের পর থেকেই ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের কাছে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তারপরই ইরানি সেনা সক্রিয় এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্তা জানিয়েছে, হরমুজের কাছে ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই অঞ্চলে আমেরিকার জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। সেখানে মার্কিন জাহাজগুলিতে হামলার পরিকল্পনা করছিল ইরান। তা বানচাল করতেই অভিযান চালানো হয়। তাঁর কথায়, “এই পদক্ষেপ ছিল পরিমিত এবং সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্যই এই অভিযান।” অন্যদিকে, মার্কিন অভিযানের কিছুক্ষণ পরই কুয়েতের বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করে ইরান। শুধু তা-ই নয়, আগামী দিনে আরও বড় হামলারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
এদিকে সংঘাতের মধ্যেই শোনা গিয়েছে, ইরানের প্রস্তাবিত শান্তির চুক্তির নতুন খসড়া সামনে এসেছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, নয়া প্রস্তাবে বিশেষভাবে দাবি করা হয়েছে যে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি, হরমুজে মার্কিন দাদাগিরি চলবে না। বিনিময়ে বিশ্বের 'জ্বালানির ধমনী'তে আগের মতো নৌচলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে ইরানের তরফে শান্তি চুক্তির প্রস্তাবগুলি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন, শীঘ্রই ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে উলটো ছবিটা দেখছে গোটা পৃথিবী। মঙ্গলবার ভোরে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরান রেভোলিউশনারি গার্ডের নৌকায় হামলা চালায় আমেরিকা এই হামলায় চারজনের মৃত্যুর খবর মেলে। মার্কিন সেনার তরফে জানানো হয়, আত্মরক্ষায় এই হামলা চালানো হয়েছে। কারণ ওই নৌকাগুলি সমুদ্রের তলদেশে মাইন পোঁতার কাজ করছিল। ওই ঘটনার পরে গুলি করে মার্কিন ড্রোন নামায় আইআরজিসি। পাশাপাশি, একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করেও গুলি চালায় আইআরজিসি। তারপর থেকে অব্যাহত দু'দেশের রক্তাক্ষয়ী সংঘাত।
